ছবির ক্যাপশন: ....
মো: আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা :
ঢাকা জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ঢাকা জেলার ৫টি উপজেলার ৮৬৯টি এবং ঢাকা মহানগর এলাকার ১৪৯টিসহ সর্বমোট ১ হাজার ১৮টি পূজামণ্ডপের অনুকূলে মোট ৬৯ লাখ ১০ হাজার (প্রায় ৭০ লাখ) টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকা জেলা পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুদান বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী বা দালালচক্র ছাড়াই সরাসরি পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হচ্ছে। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ৫টি উপজেলার ৮৬৯টি মণ্ডপের জন্য ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং ঢাকা মহানগরের ১৪৯টি মণ্ডপের জন্য ২৬ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
উপজেলাওয়ারী তথ্যে জানা যায়, সাভারে সর্বোচ্চ ২৩৮টি, ধামরাইয়ে ২৩৫টি, নবাবগঞ্জে ২০১টি, কেরানীগঞ্জে ১৫৩টি এবং দোহারে ৪২টি পূজামণ্ডপ এ অনুদানের আওতায় এসেছে। প্রান্তিক পল্লি অঞ্চল থেকে শুরু করে নগরসংলগ্ন এলাকার সব মণ্ডপেই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এ আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
গত ১৩ অক্টোবর নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার মণ্ডপগুলোর অনুকূলে চেক বিতরণ করা হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দীন টুকু। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক ও ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।
১৪ অক্টোবর ধামরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুনের সভাপতিত্বে চেক ও সরকারি জিআর চাল বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন আহমেদ।
একই দিন কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঢাকা-২ আসনের মণ্ডপগুলোর জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী, ডাকসুর সাবেক ভিপি, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান। কেরানীগঞ্জ ইউএনও মো. উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ। অনুষ্ঠানে আমানউল্লাহ আমান বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারও সবার।” দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো অপশক্তি যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা নাশকতা চালাতে না পারে, সে জন্য কেরানীগঞ্জের প্রতিটি মণ্ডপে তিন শিফটে (৮ ঘণ্টা করে) সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
এছাড়া ঢাকা-৩ আসনের কেরানীগঞ্জ অংশে তেঘরিয়া ইউনিয়নের স্বর্গপুরী মন্দিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী।
আজ ১৫ অক্টোবর সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইউএনও মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মণ্ডপ প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।
ঢাকা মহানগর এলাকার পূজা মণ্ডপগুলোর জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, তাঁদের প্রতিনিধি এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের মাধ্যমে চেক বিতরণ করা হয়েছে। ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ঢাকা-৯ আসনের হাবিবুর রশীদ, ঢাকা-১০ আসনের শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-১৮ আসনের এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন নিজ নিজ এলাকায় এ চেক হস্তান্তর করেন। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন ও ববি হাজ্জাজের নির্বাচনী এলাকা এবং বিরোধী দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে অনুদান প্রদান করা হয়।
উদ্যোগটি সম্পর্কে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ জানান, তৃণমূল ও মহানগর পর্যায়ে সরাসরি প্রকৃত কমিটির হাতে অনুদান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মহানগরীর যেসব মণ্ডপ এবার বাদ পড়েছে, আগামীতে সেগুলোকে যুক্ত করা হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করতেই সরকারের এ পদক্ষেপ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
