আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্গাপুজোর সপ্তমীতে শোকের ছায়া বাংলা জুড়ে। উত্তর কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু। আহত আরও ২৫ জন। এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুললেন শমীক ভট্টাচার্য।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক ঘটনা। এই কঠিন সময়ে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সংবেদনশীলতা, ধৈর্য এবং সত্য উদ্ঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ACP-র প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ঘোষণা এবং কয়েকবার হুইসেল বাজানোর পর পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সমীচীন নয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে সেই দায়িত্বশীল মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও আগাম মন্তব্য নয়, বরং পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সঠিক তদন্তের আশ্বাস।"
https://x.com/SamikBJP/status/2111519471479427405
এরপরই তিনি লিখেছেন, "পুজো কমিটির সদস্য ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীদের আটক করে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সবরকম সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শোকের মুহূর্তে কোনওরকম রাজনৈতিক চাপানউতোর নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনা—এটাই হওয়া উচিত আমাদের সকলের অগ্রাধিকার। স্বচ্ছ তদন্ত, মানবিক সহায়তা এবং ন্যায়বিচার—এই তিনটি বিষয়ই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।"
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, 'কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু মিছিলের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। কলকাতার ইতিহাসে, কলকাতার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে এই প্রথম এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে বলে খবর আসছে। এই মুহূর্তে আমরা কোনও সংকীর্ণ রাজনীতি করতে চাই না।'
শুভঙ্কর সরকারের কথায়, 'স্থানীয় ও আশেপাশের সমস্ত কংগ্রেস কর্মীরা উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছেন। অন্য জায়গা থেকেও কর্মীরা ছুটে আসছেন আহতদের সহায়তা ও নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। প্রশাসনের সঙ্গে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার জন্য আমি সকল কংগ্রেস কর্মীদের অনুরোধ করছি।কলকাতার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে এই প্রথম এমন ট্র্যাজিক ঘটনা, প্রশাসন কি নির্বিকার ছিলেন? প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল?'
তাঁর অভিযোগ, 'একদিকে বইয়ের স্টল ভাঙতে প্রশাসনের অতি সক্রিয়তা দেখা যায়, বুলডোজার পাঠিয়ে প্রশাসন বইয়ের স্টল ভাঙছেন, অথচ ভিড় নিয়ন্ত্রণে তাদের কোনও ইতিবাচক ভূমিকা দেখা গেল না। এটা অত্যন্ত আক্ষেপের ও দুঃখের। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে নামী পুজোগুলির উদ্বোধন করলেন। আমাদের প্রশ্ন, এই পুজোগুলির 'ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট' কীভাবে পাওয়া যায় এবং মণ্ডপের বাইরে সেই সংক্রান্ত তথ্য টাঙানো থাকে কি না? মুখ্যমন্ত্রী যেখানে উদ্বোধন করতে গেছেন, তাঁর নজরে কি সেগুলো পড়েছে?
শুধু চোরবাগান নয়, কলকাতার আরও অনেক নামী পুজো মণ্ডপেও আজ চরম অব্যবস্থার ছবি ধরা পড়েছে, যেখানে চোরবাগানের মতো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল, আছে এবং আগামীতেও থাকবে। আবারও বলছি, এই মুহূর্তে রাজনৈতিক কচকচানি থেকে আমরা দূরে থাকতে চাই। যাঁরা মৃত, তাঁদের পরিবারের জন্য সঠিক ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং এই সামগ্রিক ঘটনায় কার গাফিলতি ছিল, তা বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে - এই দাবি জানাচ্ছি। যাঁরা স্বজন হারিয়েছেন, যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের পাশে কংগ্রেস ছিল, আছে, থাকবে।'
