গোপালগঞ্জে পিকআপের চাপায় বাবা-মেয়ের মৃত্যু
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পিএম
দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপভ্যান। ছবি: খবরের কাগজ
-->গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মাছবাহী পিকআপের চাপায় বাবা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গ্যাড়াখোলা ব্রিজের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পবন বেগ গ্রামের হেমায়েত মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলাম রঞ্জু (৪৫) ও তার মেয়ে সামিরা আক্তার (৬)।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোপালগঞ্জগামী একটি মাছবাহী পিকআপ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোভ্যানকে চাপা দিয়ে উল্টে যায়। এতে ভ্যানে থাকা সাইফুল ইসলাম রঞ্জু ও তার মেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাদল সাহা/সালমান/
আরও পড়ুন
পিরোজপুরে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন, কবর খুড়েন মেয়ে ও বোন
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->পিরোজপুরে গার্ড অব অনার দেওয়া ও নিজ গ্রামে দাফন নিয়ে দিনভর বিরোধ ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মানিক পশারীর ছোট বোন মোছাম্মৎ রিনা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই মারা গেছেন। প্রথমে আমরা তাকে দাফনের জন্য নিয়ে আসি। কিন্তু দাফন করতে না পারায় বিপাকে পড়ি। পরে রাত দেড়টার দিকে গ্রামের বাড়ীতে দাফন করা হয়েছে।’
স্থানীয়রা জানান, রাতে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে মানিক পশারীর দাফনের সিদ্ধান্ত হলেও শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। যার ফলে তার কবর খোড়া থেকে শুরু করে দাফন পর্যন্ত সব কাজ বোন এবং মেয়েকেই সম্পন্ন করতে হয়েছে।
এর আগে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বাধার কারণে গার্ড অব অনার বিলম্ব হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর নিজ গ্রামে দাফন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দাফনের বিষয়ে সমঝোতা হয়। পরে পুলিশ পাহারায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।’
মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, গার্ড অব অনারের অপেক্ষায় তাদের বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত থাকতে হয়। এ সময় সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে বরফ ছাড়াই মরদেহ রাখা হয়েছিল। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়।’
ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মানিক পশারীর মরদেহ পুলিশ লাইন্সে ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা ছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জামায়াতের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে দাফনের বিষয়ে সমঝোতা হয়। রাত দেড়টার দিকে পুলিশ পাহারায় তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।’
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। দাফন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটিয়ে রাত দেড়টার দিকে পুলিশ পাহারায় তার মরদেহ দাফন করা হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দিনভর চলা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।’
অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া ও পিরোজপুরে দাফনের বিরোধিতা করেন। তবে পরিবারের দাবি, মানিক পশারী গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা।
মানিক পশারীর বাড়ি চিতলিয়া গ্রামে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ছিলেন। গত দুই মাস অসুস্থ থাকার পর শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
মইনুল সবুজ/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
রংপুরে গণপিটুনিতে নিহত ২
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->রংপুরের গংগাচড়ায় অটোরিকশা চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে দুজন নিহত হয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার বড় বিল ইউনিয়নের বাগপুর বাগেরহাটে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।
নিহত আজারুল মিয়া ও সাদিকুল ইসলাম গংগাচড়া উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর বাগেরহাট গ্রামের আব্দুল মতিন মেম্বারের ছেলে সোহেল মিয়ার বাড়ি থেকে ব্যাটারিচালিত অটো চুরির সময় মালিক বুঝতে পেরে চিৎকার করে। একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী মসজিদের ইমাম বুঝতে পেরে মসজিদের মাইকে চোর বলে চিৎকার করেন। এ সময় ফজরের নামাজ পড়া মুসল্লিও স্থানীয় লোকজন অটোসহ চোরদের ধাওয়া করে গণপিটুনি দেয়। গণপিটুনির ফলে ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাটি সম্পর্কে সিআইডি এবং পিবিআই, ক্রাইমসিন টিমকে অবগত করার পর তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করেন।
গংগাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, ‘মরদেহ আমরা নিয়ে এসেছি। পরবর্তী অভিযোগ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সেলিম সরকার/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
চাকরির আশায় রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধে, রাজুর মৃত্যুর খবরে দিশেহারা পরিবার
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->রাশিয়ায় মেকানিক্যাল শ্রমিকের চাকরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন ছিল ফরিদপুরের রাজু মাতুব্বরের (২৮)। সেই আশায় গত ৮ মে দেশ ছাড়েন তিনি। কিন্তু চাকরির পরিবর্তে তাকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফেসবুকে রাতুল নামের এক যুবকের প্রকাশ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে রাজু মারা গেছেন বলে দাবি করেন রাতুল। পাশাপাশি ভিডিওটি বেশি বেশি শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি।
রাজু ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার মাঝিকান্দা গ্রামের নান্নু মাতুব্বরের ছেলে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পরিবারে চলছে আহাজারি। আড়াই বছরের ছেলে ও এক বছরের মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী শারমিন আক্তার। ছেলের ছবি হাতে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বাবা নান্নু মাতুব্বর ও মা রাজিয়া বেগম।
রাজুর পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী কফাইবালিয়া গ্রামের প্রিন্স মাতুব্বর ও তার ছোট ভাই রানার মাধ্যমে সাড়ে ১৪ লাখ টাকায় রাজুকে রাশিয়ায় পাঠানোর চুক্তি হয়। এর মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করা হয়। বাকি ১০ লাখ টাকা রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি পাননি রাজু। পরিবারের দাবি, তাকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রিন্স ও রানাকে দায়ী করছেন স্বজনরা। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজুর বাবা নান্নু মাতুব্বর বলেন, ‘ভালো চাকরির আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর খবর পাই।’
এখন ছেলের মৃত্যুর খবর শুনছেন। তিনি ছেলের প্রকৃত অবস্থা জানতে চান। একই সঙ্গে এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
রাজুর ছোট ভাই রাজন মাতুব্বর জানান, ভিডিওটি দেখার পর পরিবারের সদস্যরা রাতুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন রাতুলও রাজুর মৃত্যুর কথা জানান। তবে কীভাবে, কখন বা কোথায় রাজু মারা গেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি তারা।
রাজুর স্ত্রী শারমিন আক্তার দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন। বাবার সঙ্গে কী ঘটেছে, তা বোঝার বয়স হয়নি সন্তানদের।
তবে রাজুর পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রিন্স মাতুব্বরের ছোট ভাই রানা। তার দাবি, রাশিয়ায় যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে রাজুকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।
রাজু নিজেই রাশিয়ায় অবস্থানরত প্রিন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে যান। তাকে প্রতারণা করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন রানা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রিন্স মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ জানান, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। রাজুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রাজুর প্রকৃত অবস্থা জানতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। তাদের দাবি, রাজু বেঁচে থাকলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। আর মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফেরানোর পাশাপাশি চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগের তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এনকেবি নয়ন/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
মুক্তিযোদ্ধা বানানোর নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ছয় শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে নিয়ে বিক্রির চেষ্টা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সমবায় সমিতির প্রায় ১০ লাখ টাকা ও সংসদের আসবাবপত্র আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাশেম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত।
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার নতুনপাড়া এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবুল কালাম অভিযোগ করেন, মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় গেজেটভুক্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক বছর আগে তার কাছ থেকে ৪৭ হাজার টাকা নেন আবুল হাশেম। আবুল কালাম বলেন, ‘যুদ্ধের সময় আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী ছিলাম। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় গেজেটভুক্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক বছর আগে আমার কাছ থেকে ৪৭ হাজার টাকা নিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাশেম। এরপর হবে, হচ্ছে করে করে অনেক ঘুরিয়েছে। এখন আর সে আমার সঙ্গে কথা বলতেও রাজি না।’
একই এলাকার বাসিন্দা মোমিনুল হক অভিযোগ করেন, তার বাবা মরহুম গোলাম হোসেন মুক্তিযোদ্ধা না হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তার বাবাকে গেজেটভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আবুল হাশেম তার প্রবাসী ছোট ভাই ও মায়ের কাছ থেকে কয়েক দফায় আড়াই লাখ টাকা নিয়েছেন। মোমিনুল হকের অভিযোগ, বিভিন্নভাবে তাদের কাছ থেকে এই অর্থ নেওয়া হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে উপজেলার শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন আবুল হাশেম। তবে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলছেন না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগীরা প্রতিকার দাবি করেছেন।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সম্পত্তি ও সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতারা। তাদের অভিযোগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ছয় শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে করে নেন আবুল হাশেম। এখন ওই জমি গোপনে বিক্রির চেষ্টা করছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. হাসানুল ইসলাম, পৌর শাখার সভাপতি লিটন বিশ্বাস এবং উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক শশাংকর কিশোর ত্রিপুরা লিটন এ অভিযোগ করেন।
জমির পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের সমবায় সমিতির প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আসবাবপত্র আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. নূর নবী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কয়েকদিন আগে লিখিত অভিযোগও করেছেন।
সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূর নবী ও আরেক সাবেক কমান্ডার মনীন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা অভিযোগ করেন, সমিতির অর্থ ও সংসদের সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব সম্পদের বর্তমান অবস্থা, অর্থের ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে সব অভিযোগই প্রত্যাখ্যান করেছেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাশেম। জমি, সমবায় সমিতির অর্থ ও আসবাবপত্র আত্মসাৎ এবং অর্থের বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, এসব অভিযোগের কোনোটিই সত্য নয়।
এদিকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আবুল হাশেমের নাম পাওয়া গেলেও তিনি দাবি করেন, চাপে পড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও কোনো কমিটিতে ছিলেন না।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
