রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
রুশ বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ভালেরি গেরাসিমভ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানিয়েছেন, মানবিক কার্যক্রম শুরুর সুযোগ দিতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা থেকে রুশ সেনারা গুলি চালানো বন্ধ রাখবে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুশ বাহিনীর দখলে থাকা শহরটির বাসিন্দারা ক্রমবর্ধমান খাদ্যসংকটের কথা জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ওলেশকিতে মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং নির্ধারিত নিরাপদ পথ দিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির জন্য উভয় দেশ সাময়িকভাবে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে।’
ইউক্রেনের প্রধান আলোচক ডেভিড আরাখামিয়া টেলিগ্রামে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মানবিক কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি জানান, মেলানিয়া ট্রাম্প ও পোপ লিওর সম্পৃক্ততায় দীর্ঘ আলোচনার পর এ সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় শহরটির বাসিন্দাদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য একটি মানবিক করিডর প্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে শহরটিতে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।
মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন এ সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। চুক্তি সম্পাদনে মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করে তারা জানিয়েছে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
ক্রেমলিন চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিল, ওলেশকির মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ চলছে। এর আগে পুতিন পোপকে জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে রাশিয়া প্রস্তুত।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে চলমান যুদ্ধের অবসানে পুতিনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির এ উদ্যোগ সামনে এলো।
ইউক্রেনের শিশুদের ফিরিয়ে আনতেও সক্রিয় মেলানিয়া
যুদ্ধের সময় রাশিয়ার নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টায়ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন মেলানিয়া ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে মেলানিয়া বলেন, ‘ওলেশকির পরিস্থিতি ভয়াবহ। শহরটি যুদ্ধের সম্মুখসারিতে অবস্থিত এবং বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। সেখানে এখনো যারা বসবাস করছেন, তাদের অধিকাংশই বয়স্ক। তাদের জরুরি চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও বিশুদ্ধ পানি প্রয়োজন।’
মেলানিয়া জানান, যুদ্ধবিরতির ফলে দুই দেশের বেসামরিক দলগুলো বাসিন্দাদের বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। যারা শহর ছেড়ে যেতে চান, তাদের রাশিয়া অথবা ইউক্রেনে যাওয়ার জন্য পরিবহণের ব্যবস্থা ও সমন্বিত সহায়তা দেওয়া হবে।
এ কার্যক্রমের নথি সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির জন্য একটি মার্কিন গণমাধ্যম সংস্থাও দলগুলোর সঙ্গে থাকবে বলে জানান তিনি। তবে বিবৃতিতে সংস্থাটির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা খেরসন শহরের বিপরীত পাশে দিনিপ্রো নদীর তীরে অবস্থিত ওলেশকি। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে শহরটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ হাজার। বর্তমানে সেখানে ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। তাদের অধিকাংশই বয়স্ক। এ ছাড়া সেখানে প্রায় ৫০টি শিশু রয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ২০২৩ সালে কাখোভকা বাঁধ ধ্বংসের পর শহরটির প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির শর্ত নির্ধারণে মেলানিয়া ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধি সরাসরি রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন।
মেলানিয়া বলেন, ‘যেসব বাসিন্দা শহর ছেড়ে যেতে চান, তাদের পছন্দের গন্তব্যে পৌঁছাতে সমন্বিত সহায়তা ও পরিবহণের ব্যবস্থা করা হবে। আমার ধারণা, কেউ কেউ রাশিয়ায় যেতে চাইবেন, আবার কেউ ইউক্রেনে যেতে চাইবেন।’ সূত্র: রয়টার্স