এআই বুটক্যাম্পে তরুণদের উদ্ভাবনে পথ দেখাচ্ছে গ্রামীণফোন
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাস্তব সমস্যার সমাধানে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে এআই বুটক্যাম্পের আয়োজন করেছে গ্রামীণফোন একাডেমি। বিনা মূল্যে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী এই প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত বুটক্যাম্পে ৮০ জন নির্বাচিত অংশগ্রহণকারী হাতে-কলমে এআইভিত্তিক ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল পণ্য তৈরির সুযোগ পান। গত ১২ অক্টোবর ঢাকায় জিপি হাউসে চূড়ান্ত উপস্থাপনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন শেষ হয়।
বুটক্যাম্পের অংশ হিসেবে গ্রামীণফোন একাডেমি আয়োজন করে ‘নো-কোড এআই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কম্পিটিশন’। এতে আগে থেকে প্রোগ্রামিং জানার প্রয়োজন ছাড়াই এআইকে নির্দেশনা দিয়ে কার্যকর ওয়েবসাইট তৈরির চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিযোগিতায় ২১০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে ৮০ জনকে বাছাই করে বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
‘আইডিয়েট, বিল্ড, টেস্ট’ পদ্ধতিতে বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তব জীবনের সমস্যা শনাক্ত করা, এআইভিত্তিক সমাধান তৈরি এবং এমভিপি তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাঁদের কাজের ক্ষেত্র ছিল ক্যারিয়ার, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইজিপি।
বুটক্যাম্পের চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের তৈরি প্রকল্প উপস্থাপন করেন। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘ট্রেজেক্টরি’ প্ল্যাটফর্মের নির্মাতা দল। এআইনির্ভর এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর দক্ষতা ও জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিভেদে ক্যারিয়ার পরামর্শ, প্রশিক্ষণের সুপারিশ এবং সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য দেয়।
প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছে ‘মাইজিপি কেয়ার’ প্রকল্পের দল। এটি এআইভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার একটি প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাসেবা খুঁজে পেতে পারবেন। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে ‘প্রজেক্ট লাইফলাইন’। জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যোগাযোগ বজায় রাখা এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রস্তুতিতে সহায়তা করাই এই এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য।
বিজয়ী তিনটি দল এক বছরের জন্য বিনা মূল্যে প্রিমিয়াম এআই টুল ব্যবহারের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি নিজেদের প্রকল্পকে বাস্তবসম্মত ও কর্মসংস্থান-উপযোগী পণ্যে রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ পাবে তারা।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান, চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার অটো মাগনে রিসব্যাক, চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অফিসার আন্দ্রেয়াস হগবার্গ এবং হেড অব এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রশিক্ষক ও গ্রামীণফোন একাডেমির শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ইয়াসির আজমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেখা, কাজ করা ও নতুন সুযোগ তৈরির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে তরুণদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণফোনের এআই কৌশলে কর্মী, কার্যক্রম ও গ্রাহকসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বাইরেও তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে গ্রামীণফোন। ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা যেন তাঁদের সম্ভাবনার পথে বাধা না হয়, সে লক্ষ্যেই গ্রামীণফোন একাডেমির মাধ্যমে শেখা ও বাস্তবে জ্ঞান প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এআই বুটক্যাম্প তরুণদের বাস্তব সমস্যার সমাধান তৈরি এবং এআইনির্ভর বিশ্বে কাজ করার আত্মবিশ্বাস অর্জনে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে গুগল জেমিনাই স্পার্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দৈনন্দিন জীবনের পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত অ্যাসিস্ট্যান্টের ব্যবহার বাড়ছে। এবার গুগল তাদের নতুন এআই এজেন্ট ‘জেমিনাই স্পার্ক’ চালু করেছে। এর মাধ্যমে ইমেইল থেকে তথ্য সংরক্ষণ, স্টাইল গাইড তৈরি কিংবা তথ্য অনুসন্ধানের মতো কাজ ব্যাকগ্রাউন্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। এটি গুগলের এক ধরনের ‘এজেন্টিক’ ব্যক্তিগত সহকারী, যা ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে।
চলতি বছরের মে মাসে গুগলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে এটি উন্মোচন করা হয়। গুগল ওয়ার্কস্পেসের ডকস, ক্যালেন্ডার, স্লাইডস ও জিমেইলের সঙ্গে এটি সমন্বিতভাবে কাজ করে। ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী এটি ইমেইল থেকে তথ্য নিয়ে গুগল শিটসে সংরক্ষণ করা বা গ্রাহকের নামে ফাইল ও ফোল্ডার তৈরির কাজ করতে পারে।
জেমিনাই স্পার্ক ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীকে গুগল এআই প্রো বা আলট্রা পরিকল্পনার গ্রাহক হতে হবে। জেমিনাইয়ের সেটিংসে ‘কিপ অ্যাক্টিভিটি’ অপশনটি চালু রাখতে হবে। মোবাইল অ্যাপ, ম্যাক অ্যাপ কিংবা ওয়েব সংস্করণে এটি ব্যবহার করা যায়। তবে গুগল কিছু সতর্কবার্তাও দিয়েছে। কোনো পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য বা পেমেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য এতে দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় কাজগুলোর দিকে নিয়মিত নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
কাজ শুরু করতে মেনু থেকে ‘স্পার্ক’ অপশনটি বেছে নিতে হয়। এর পর টেক্সট বক্সে নির্দিষ্ট কাজের বর্ণনা টাইপ করে সাবমিট করতে হবে। কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে ‘টাস্ক’ বিকল্পে গিয়ে বর্তমান অবস্থা দেখে নেওয়া যায়। প্রয়োজনে যেকোনো মুহূর্তে এতে নতুন নির্দেশনা যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি গুগল আগের ‘জেমিনাই জেমস’-এর পরিবর্তে ‘স্কিলস’ ফিচার যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে ফরোয়ার্ড স্ল্যাশ (/) ব্যবহার করে আগে থেকে সংরক্ষিত নির্দেশনাগুলো যেকোনো কাজে দ্রুত প্রয়োগ করা সম্ভব।
আরও পড়ুন
স্মার্টফোনে টেকনোর এজেন্টিক এআই ‘এলা ক্ল’
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট এখন আর শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফোনের নিয়ন্ত্রণ, প্রতিদিনের কাজ সহজ করা এবং বিভিন্ন অ্যাপের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতেও সাহায্য করছে এই প্রযুক্তি। গ্রাহকদের স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও ব্যক্তিগত রূপ দিতে প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনো নিয়ে এসেছে এজেন্টিক এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘এলা ক্ল’।
টেকনোর ‘এলা ক্ল’ অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ‘ওপেনক্ল’ ফ্রেমওয়ার্কের সমন্বয়ে তৈরি নতুন এই প্রযুক্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ চ্যাটবটের মতো কেবল কথা বলার বদলে এটি ব্যবহারকারীর পছন্দ বুঝে ডিভাইসে নানাবিধ কাজ করে দিতে পারে। ৪০টিরও বেশি স্বয়ংক্রিয় দক্ষতার সমন্বয়ে তৈরি এই এআই অতিরিক্ত ব্যাটারি বা ডেটা ব্যবহারকারী অ্যাপ শনাক্ত করতে পারে। সেই সঙ্গে প্রসেসর ও মেমোরির ব্যবহার কার্যকর করার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড কাজ বন্ধ রেখে ফোনের গতি বাড়াতে সাহায্য করে। তবে বড় কোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারকারীর পূর্বানুমতি গ্রহণ করে, যাতে ডিভাইসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর হাতে থাকে।
দীর্ঘমেয়াদি তথ্যাবলি মনে রাখার ক্ষমতা থাকায় ‘এলা ক্ল’ ব্যবহারকারীদের জন্য দারুণ একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। ক্যালেন্ডার, আবহাওয়া ও ভ্রমণের তথ্য পর্যালোচনা করে দিনের শুরুতে এটি সংক্ষিপ্ত বার্তা দিতে পারে। পাশাপাশি ভ্রমণে দিকনির্দেশনা ও যাতায়াতের সময়সূচি মনে করিয়ে দেওয়ার কাজও করতে পারে এটি। এ ছাড়া ব্যবহারকারীর সম্মতিক্রমে কেনাকাটা, যানবাহনের টিকিট কাটা, খাবার অর্ডার করা এবং স্মার্ট হোম অ্যাপ নিয়ন্ত্রণের মতো নানা কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে পারে।
এসব কাজ সম্ভব হচ্ছে ‘ক্রস-অ্যাপ অটোমেশন’ সুবিধার মাধ্যমে। এর সাহায্যে একটি অ্যাপের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অন্য অ্যাপকে চালনা করা যায়। যেমন কেবল একটি মৌখিক বা লিখিত নির্দেশ পেলে এটি রাইড-শেয়ারিং অ্যাপে গাড়ি বুক করা, অনলাইনে কেনাকাটা বা খাবার অর্ডারের কাজটি সহজে করে নেয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটির প্রতিটি ধাপ স্ক্রিনে দেখা যায়, ফলে ব্যবহারকারী সহজে পুরো কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ‘এলা ক্ল’ প্রযুক্তি নিয়ে ইতিবাচক পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যম ‘অ্যান্ড্রয়েড অথরিটি’ জানিয়েছে, ওপেনক্ল-চালিত এই প্রযুক্তি স্মার্টফোনে প্রতিদিনের বহুবিধ কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে সক্ষম। প্রযুক্তিবিষয়ক মাধ্যম ‘গ্যাজেটম্যাচ’ উল্লেখ করেছে, প্রযুক্তিটি ফোনের দক্ষতা বাড়ানো এবং দৈনন্দিন কাজের সময়সূচি ব্যবস্থাপনায় দারুণ কাজে আসবে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ’-এর মতে, টেকনোর এই সংযোজন স্মার্টফোনকে নতুন প্রজন্মের ‘এজেন্ট ফোন’-এ রূপান্তর করছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, টেকনো এই প্রযুক্তি শুধু দামি ডিভাইসে সীমাবদ্ধ না রেখে সব গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
বাংলাদেশের মতো বাজারে, যেখানে পড়াশোনা, ব্যবসা ও সেবামূলক কাজে স্মার্টফোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এমন এজেন্টিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
আরও পড়ুন
আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে আইফোন ১৮ সিরিজ উন্মোচন
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়েছে অ্যাপলের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির আইফোন ১৮ সিরিজ। অ্যাপলের অফিশিয়াল মনোভ্যান্ড পার্টনার ও অনুমোদিত পুনর্বিক্রেতা গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার গতকাল রবিবার ঢাকায় এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এই আইফোন লাইনআপ উন্মুক্ত করে। গ্রাহকেরা এখন দেশের সব গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ারের শোরুম ও অনলাইন থেকে এসব ফোন কিনতে পারবেন।
নতুন সিরিজের আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স নিয়ে ইতিমধ্যে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে বেশ উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এতে যুক্ত হয়েছে নতুন ৪৮ মেগাপিক্সেল ভেরিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচার এবং উন্নত ব্যাটারি ব্যবস্থা।
গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ারের পক্ষ থেকে আইফোন ১৮ সিরিজের জন্য আনা হয়েছে বিশেষ ‘শিল্ড+’ প্রটেকশন সেবা, যা প্রতিটি ফোনের সাথেই নিখরচায় দেওয়া হচ্ছে। অ্যাপলের নিয়মিত এক বছরের ওয়ারেন্টির সঙ্গে এই সেবার মাধ্যমে ক্রেতারা অতিরিক্ত আরও এক বছরের ওয়ারেন্টি পাবেন। অর্থাৎ ফোনগুলোতে মিলছে মোট দুই বছরের ওয়ারেন্টি সুবিধা। এ ছাড়া এই মেয়াদের মধ্যে একবার করে ফ্রন্ট স্ক্রিন ও ব্যাক গ্লাস রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ পাবেন ব্যবহারকারীরা।
ক্রেতাদের জন্য রয়েছে আকর্ষনীয় অর্থায়নের সুযোগও। শূন্য শতাংশ সুদে ২৪ মাস পর্যন্ত ইএমআই সুবিধা এবং সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা ক্যাশব্যাকের সুবিধা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। স্টক থাকা সাপেক্ষে গ্রাহকেরা উপহার হিসেবে পাবেন এয়ারপডস প্রো ৩ অথবা এয়ারপডস ৫। এ ছাড়া সঙ্গে বিনামূল্যে মিলবে অফিশিয়াল কেস, ২০ ওয়াটের অ্যাপল অ্যাডাপ্টার এবং স্পাইগেন স্ক্রিন প্রটেক্টর।
উন্মোচন অনুষ্ঠানে গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিন আবসার ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান।
অনুষ্ঠানে গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ারের হেড অব মার্কেটিং তাসরিফ খালেদ বলেন, “আমরা গ্রাহকদের সব সময় প্রিমিয়াম ডিভাইস ও সেবা সুনিশ্চিত করি। আইফোন ১৮ সিরিজের সঙ্গে বিনামূল্যে ‘শিল্ড+’ সেবা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। বর্ধিত ওয়ারেন্টি ও গ্লাস রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা একসঙ্গে পাওয়ার ফলে ক্রেতারা নিশ্চিন্তে তাঁদের পছন্দের ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন।”
গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ারে আইফোন ১৮ প্রোর বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯ টাকা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ারের সব আউটলেট এবং অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ডেটাডেভেলপ প্রাইজ ২০২৬ প্রতিযোগিতা
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
ছবি সিএমজি
-->কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা এবং আধুনিক প্রযুক্তির যুগোপযোগী ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও টেকসই করে তোলার প্রত্যয়ে ঢাকায় সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো ‘ডেটাডেভেলপ প্রাইজ ২০২৬ বিডি কেস প্রতিযোগিতা’। একাডেমি অব গার্মেন্টস টেকনোলজি বাংলাদেশ এর উদ্যোগে সম্প্রতি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে এই চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মেন্টর, পোশাক খাতের পেশাজীবী এবং করপোরেট প্রতিনিধি মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।
বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ও শিল্পখাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডেটা ও প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়াতে এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত ছিল বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএ-এর ৩৫০টি শীর্ষস্থানীয় সদস্য সংস্থা। কয়েকটি ধাপ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের এই শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ৭০ জন অভিজ্ঞ পেশাজীবীকে বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে তারা ১২টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে যৌথভাবে বহুমুখী টিম গঠন করে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে একাডেমি অব গার্মেন্টস টেকনোলজি বাংলাদেশের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার এবং মাস্টার ট্রেইনার হেনরি শু আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে তুলে ধরেন নিজের দৃষ্টিভঙ্গি।
তিনি বলেন, একা আনন্দ উপভোগ করার চেয়ে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেয়া অনেক বেশি উপভোগ্য। হংকংয়ের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।
আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দিয়ে হেনরি শু জানান, তৈরি পোশাক খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কারখানার ঝুঁকি এবং কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত বিষয়াবলি। এই প্ল্যাটফর্মটি শিল্প কারখানা ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর মাঝে একটি মজবুত সেতু হিসেবে কাজ করবে।
এরপর বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে নতুনভাবে রূপকল্পনা ও একটি স্বল্প বর্জ্যপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ সম্প্রদায় গড়ে তোলা শীর্ষক দুটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব টেকসই প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অর্থায়ন কাঠামোর উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
তারা অপচয় ও দূষণ কমাতে প্রযুক্তির ব্যবহার, একাডেমিয়া ইন্ডাস্ট্রি যৌথ অংশগ্রহণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর জোর দেন। পাশাপশি এআই ও অটোমেশন কর্মসংস্থান না কমিয়ে বরং মানুষের দক্ষতা বাড়াবে উল্লেখ করে প্রযুক্তি ও মানুষের যৌথ প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়। সর্বশেষে বক্তারা একমত হন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের শীর্ষ অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
অনুষ্ঠানের মাঝ পর্বে শিক্ষার্থীদের ৫টি পৃথক দল তাদের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের উদ্ভাবনী কেস প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করে বিচারকদের সামনে। যেখানে প্যানেল বিচারকদের বিবেচনায় বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে টিম লেজারার্স। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিজয়ী দল, মেন্টর ও সাব-মেন্টর এবং বিচারকদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দল লেজারার্স গার্মেন্ট সম্পূর্ণ স্পন্সরশিপে চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের হংকং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্কে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ‘ডেটা ডেভেলপ প্রাইজ হংকং ২০২৬ কেস কম্পিটিশন’-এ সরাসরি অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশি হিসেবে আমরা সবাই এই বিষয়ে গর্ববোধ করি যে, চীনের পরেই বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের দেশে বিশ্বমানের শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে। যখন তরুণ শিক্ষার্থী এবং তরুণ মস্তিষ্ককে তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেয়া হয়, তখন তা চমৎকার একটি উদ্যোগ।
বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বর্তমান অর্থসংকট কিংবা গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি একটি সাময়িক বাধা মাত্র। ম্যানচেস্টার ও চীনের পর বিশ্ব টেক্সটাইল শিল্পের মূল কেন্দ্র এখন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্থানান্তরিত হচ্ছে। তাই এই খাতের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট এবং অরবিসের তহবিলে বিশেষ অনুদান প্রদান করে লিজ ফ্যাশন ও লিডা টেক্সটাইল।
আয়োজকরা বলছেন, এই উদ্যোগের ফলে একাডেমিয়া এবং শিল্প খাতের দূরত্ব ঘুচে যাবে এবং তরুণ প্রতিভারা এআই ও ডেটা প্রযুক্তির সাহায্যে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
