নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সোনাইমুড়ী উপজেলায় ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক গুলির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার বিকালে বেগমগঞ্জের আলাইয়াপুর ইউনিয়নে এবং রাত ১০টার দিকে সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।
গুলিতে আহত ব্যক্তিরা হলেন বেগমগঞ্জের আলাইয়াপুর ইউনিয়নের বড় নেওয়াজপুর গ্রামের কামরুল হাসান (২৪) এবং সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষকামতা গ্রামের জামাল উদ্দিন (৬০)।
আহতদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে নুরু নামের এক ব্যক্তি কামরুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে তার বুকের ডান পাশে ও ডান বাহুতে গুলি লাগে। এ সময় হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অপরদিকে, একই দিন রাতে সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষকামতা গ্রামে স্থানীয় বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা জামাল উদ্দিন নামের এক প্রবাসফেরত বৃদ্ধকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় হেলমেট পরা দুই দুর্বৃত্ত। কালো পোশাকে মোটরসাইকেলে আসা ওই হামলাকারীরা ঘটনা ঘটিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণাও চালিয়েছিলেন। তার একাধিক ছেলে বর্তমানে প্রবাসে রয়েছেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মিরাজ হোসেন জানান, গুলিবিদ্ধ দুজনেই নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত।
চলতি মাসে নোয়াখালীতে মোট চারটি গুলির ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনায় মামলা বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, ‘দুটি গুলিবর্ষণের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি খোসা উদ্ধার করেছে। পুলিশ ভিকটিমদের সঙ্গে কথা বলে বক্তব্য নিয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরাধীদের মুখ ঢাকা থাকলেও বিভিন্ন ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, "নোয়াখালীতে যারা অস্ত্র ব্যবহার বা অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন, ‘তাদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী জেলা পুলিশ তাদের কোনোভাবেই ছাড়বে না এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। চলতি মাসে বেশ কয়েকটি গুলির ঘটনা ঘটেছে, যার সবগুলোর উপাত্ত নিয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং কিছু নামও পাওয়া গেছে। খুব শীঘ্রিই অপরাধীরা গ্রেপ্তার হবে এবং শাস্তি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’
