আন্তর্জাতিক ডেস্ক অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৯:৫১ অপরাহ্ণ
ভারতের মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পৃথক দুটি ঘটনায় প্রাণহানির পর ক্ষুব্ধ জনতা নিহত দুজনের মরদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
রবিবার রাতে ও সোমবার সকালে পৃথক দুটি ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এতে ইম্ফল শহরের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
এরপর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানাতে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে দুটি মরদেহ রেখে যান। পরে পুলিশ মরদেহ দুটি সেখান থেকে সরিয়ে নেয়। প্রথম ঘটনাটি ঘটে মেইতেই ও পাঙ্গাল মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায়। সেখানে একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান চলাকালে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পাথর ছোড়াছুড়ি ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে ইম্ফল পূর্ব জেলার খামেনলোক এলাকায় পৃথক একটি হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, কাছের পাহাড়ে কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া অন্তত তিনজন গ্রামবাসীকে সন্দেহভাজন আদিবাসী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে। নতুন করে এসব সহিংসতার ঘটনায় মণিপুরে উত্তেজনা বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মণিপুরের খামেনলোক এলাকায় কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে হামলায় আরো তিনজন আহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে নিহতদের মরদেহ নিয়ে একটি মিছিল ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বাসভবনের দিকে যায়।
বিক্ষুব্ধ জনতা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে মরদেহগুলো রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। নতুন করে এই সহিংসতা ও বিক্ষোভের ঘটনায় মণিপুরে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। হামলার পর গুলির ঘটনাস্থলটি নিরাপদ করা হয়েছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচন্দ সিং রাজ মেডিসিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে যান।
স্থানীয় বিধায়ক থোকচম লোকেশ্বর সিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা ইম্ফল পূর্ব জেলা ও কুকি-অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। সে সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। নিহত তিনজন হলেন নংশুম মায়াই লেইকাই এলাকার ৩৫ বছর বয়সী আরুবাম রোনিল, উয়ুম্পোক নংশুম আওয়াং লেইকাই এলাকার ৪৪ বছর বয়সী লাইরেনলাকপাম ইনাওবি এবং উয়ুম্পোক মায়াই লেইকাই এলাকার ৩২ বছর বয়সী ক্ষেত্রিমায়ুম সুশীল।
এ ঘটনার পর বিধায়ক থোকচম লোকেশ্বর সিং দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ওই এলাকার কাছে অবস্থিত ‘সিনাই ক্যাম্প’ নামে পরিচিত একটি স্থগিত অভিযান চুক্তির (এসওও) আওতাধীন শিবির সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
খুলনা গেজেট/উউরা
