ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য গণনামূলক চিন্তন (কম্পিউটেশনাল থিঙ্কিং) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রাথমিক পাঠক্রম তৈরি করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনে তৈরি এই পাঠক্রমের লক্ষ্য, স্কুলস্তরে পড়ুয়াদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া। ডিজিটাল সরঞ্জামের সুবিধা যে সব স্কুলেও সীমিত, সেখানেও যাতে এই পাঠক্রম চালু করা যায়, সে দিকে নজর রাখছে এনসিইআরটি।
পাঠক্রমের ধরণ
১। পাঠক্রমটি তৈরি হয়েছে অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও কাজের মাধ্যমে শেখার পদ্ধতিতে। হাতে-কলমে অনুশীলন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নিজস্ব ভাবনা বিশ্লেষণের মতো নানা কার্যকলাপ এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহার করে অথবা সেগুলি ছাড়াই এই কাজগুলি করা যাবে। ফলে বিভিন্ন পরিকাঠামোর স্কুলের পড়ুয়ারাই এর সুবিধা পেতে পারবে।
২। এই পাঠক্রমে পড়ুয়াদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী ভাবে কাজ করে, বাস্তব জীবনে কোথায় ব্যবহার হয় এবং এর সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা কী, তা-ও শেখানো হবে।
৩। গণনামূলক চিন্তনের মাধ্যমে কোনও সমস্যাকে চিহ্নিত করে পরিকল্পিত পদ্ধতিতে তার সমাধান খুঁজতে শেখানো হবে। এর পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং তার প্রয়োগ সম্পর্কেও ধারণা তৈরি হবে।
নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার এই পাঠক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। তথ্যের গোপনীয়তা, ভুয়ো তথ্য, ন্যায্যতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি তথ্য যাচাই করার মতো বিষয় এতে রাখা হয়েছে।
এনসিইআরটি-র মতে, প্রযুক্তির তৈরি তথ্য যাচাই না করে অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়। তথ্যের নির্ভুলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি নিজস্ব বিচারবুদ্ধি, সৃজনশীলতা এবং নৈতিক দায়িত্ববোধের গুরুত্বও পড়ুয়াদের বোঝানো হবে।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর লক্ষ্যগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই উদ্যোগ। এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করে সেগুলির বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
