চলতি অক্টোবরের ২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে বা তার পক্ষে অবস্থান নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্য দেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে মনোযোগ দিতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। খবর আল জাজিরার।
সাংবাদিক মার্ক হ্যালপেরিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এই মন্তব্য করেন। এর ঠিক একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরায়েলি নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন।
সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, আমি তার বিরুদ্ধেও বলছি না, আবার তার পক্ষেও কোনো সমর্থন দিচ্ছি না। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে আমি জড়িয়ে পড়তে চাই না। আমি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থীদের সমর্থন করি ও বর্তমানে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলোতেই আমি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে চাই।
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে ভ্যান্স হাঙ্গেরির ডানপন্থি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানকে সমর্থন করেছিলেন, যিনি পরবর্তীতে নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন।
নিজের দুই মেয়াদের শাসনামলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থি সরকারের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছেন। তবে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত জেডি ভ্যান্সের এই অবস্থান, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ‘অশর্ত সমর্থনের’ বিষয়ে রিপাবলিকান পার্টির একাংশের ক্ষোভ ও অসন্তোষকেই প্রকাশ্যে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন অর্থনীতি ও নাগরিকদের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে দলের ভেতরেই এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইতোপূর্বে গত জুনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েলি বিরোধিতার মুখে ভ্যান্স সতর্ক করে বলেছিলেন, কেবল নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আপনারা সব জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের সমাধান করতে পারবেন না।
এদিকে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত মতামত জরিপগুলোতে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাডি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’। বিরোধী দলগুলোকে একত্রিত করে সরকার গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইজেনকোট।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর পক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সমর্থন নির্বাচনে কতটা সুবিধা দেবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, অনেক ইসরায়েলি ভোটার মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অঞ্চলটিতে সামরিক সংঘাত আরও বাড়ানো বন্ধ করতে ইসরায়েলি অভিযানগুলোতে লাগাম টানার চেষ্টা করছেন।
