টলিউড অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য নুসরাত জাহান আবারও এক নতুন বিতর্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি দুর্গোৎসবে অংশ নিয়ে ঢাকের তালে নাচা এবং নিজে ঢাক বাজানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক। গত শনিবার ষষ্ঠীর দিনে স্বামী যশ দাশগুপ্তকে সাথে নিয়ে কলকাতার বেশ কয়েকটি পূজা মণ্ডপ ও মন্দির ঘুরে দেখেন নুসরাত। সে সময় তার পরনে ছিল হালকা গোলাপি রঙের শাড়ি ও মানানসই ব্লাউজ, সাথে সাজসজ্জা ও অলংকার। অন্যদিকে অভিনেতা যশ পরেছিলেন একটি সাদা রঙের পাঞ্জাবি। একটি মন্দিরে এই তারকা দম্পতিকে উৎসবে মেতে ঢাক বাজাতে দেখা যায় এবং অন্য একটি মণ্ডপে নুসরাত মেতে ওঠেন ঢাকের তালে উল্লাসে। এই উৎসবের মুহূর্তগুলোর ছবি ও ভিডিও চিত্র নুসরাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার সাথে সাথেই নেটিজেনদের একাংশ তাকে নিয়ে চরম কটাক্ষ শুরু করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওর নিচে মন্তব্য করতে গিয়ে নেটিজেনদের অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, নুসরত না মুসলিম, তাহলে এসব করে ও, যাক ভালো অনেক উন্নতি হয়েছে। অপর একজন নেটিজেন পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, ইহকালে সুখ নিতে গিয়ে পরকালের সুখ হারাবে, তখন বুঝবে ইসলাম জিনিসটা কী। এমনকি কেউ কেউ অভিনেত্রীকে নিজের নাম পাল্টে ফেলার উপদেশ পর্যন্ত দিয়েছেন এবং একজন তাকে মুসলিম জাতির কলঙ্ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর আগেও বিজয়া দশমীতে সিঁথিতে সিঁদুর পরে উপস্থিত হয়ে কঠোর ট্রোলের মুখোমুখি হতে হয়েছিল এই অভিনেত্রীকে। তবে বহু সমালোচনা সত্ত্বেও নিজের অবস্থান থেকে কখনোই সরে আসেননি নুসরাত। দুই বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে নিজের মতামত স্পষ্ট করে অভিনেত্রী বলেছিলেন যে, প্রতি বছর মহাঅষ্টমীর দুপুরে তিনি ভোগ খেতে ভালোবাসেন এবং এর জন্য তাকেই শতবার কটাক্ষ সহ্য করতে হয়েছে। তবুও তিনি অষ্টমীতে অঞ্জলি দেন এবং আগামী দিনেও অঞ্জলি দেবেন, কারণ তার মতে বিশ্বাস কোনো ধর্ম বা ভাষার ওপর নির্ভর করে না, বিশ্বাস হলো প্রতিটি মানুষের একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
