শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আবুল বাশার তালুকদার (৪০) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ভেদরগঞ্জ থানা ব্রিজসংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে হোটেল মালিক আতাউর রহমান হোসেন পলাতক রয়েছেন।
শিক্ষক আবুল বাশার তালুকদার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার ৮২ নং খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর রোববার সকালে নিজ বাড়ি থেকে শরীয়তপুরে নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের দাদার বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হন বাশার। পরে আবুল বাশারের মোবাইল থেকে ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে তার চিকিৎসা করার কথা বলে ২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু তার স্ত্রী বলেন, ‘আপনি কোথায় আছেন? আমি এসে আপনাকে চিকিৎসা করাব।’ কিন্তু ফোনটি থেকে একপর্যায়ে বাশারের শুয়ে থাকা একটি ছবিও পাঠানো হয়। টাকা না দিলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে তখন ওই নম্বরটি থেকে হুমকি দেন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি।
এরপর একাধির কল দিলেও ফোনটি রিসিভ করেননি কেউ। গাজীপুরের স্থানীয় থানায় অভিযোগ করতে গেলে সেখান থেকে মোবাইল ট্র্যাকিং করে ভেদরগঞ্জে অবস্থান পাওয়া যায়। বিষয়টি ভেদরগঞ্জ থানায় জানালে পুলিশ ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
তবে শিক্ষকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং টাকা দাবির সঙ্গে কারা জড়িত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাশারের ভাগনে কবির হোসেন বলেন, ‘আমার মামা গত রবিবার সকালে গাজীপুর থেকে শরীয়তপুরে তার দাদার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করে। রোববার থেকে সে বলছে তার বন্ধুর বাড়িতে আছে। কিন্তু সোমবারে তার মোবাইল থেকে অন্য কেউ ফোন করে ২ দফায় চিকিৎসার কথা বললে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেয়। ভেদরগঞ্জের ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। আমার মামাকে যারা খুন করেছে, তাদের আমি ফাঁসি চাই।’
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, ‘ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আমরা একজন আবুল বাশার তালুকদার নামে এক শিক্ষকের মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহটি ক্রাইম সিনের একটি তদন্ত টিম এসে ইনভেস্টিগেশন করবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
