ফিফা সভাপতি হিসেবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আরেক মেয়াদে দায়িত্ব পালনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) টোকিওতে সংস্থাটির বিশেষ কংগ্রেসের বৈঠকে এ ঘোষণা দেন এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতির চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এএফসির সদস্যসংখ্যা ৪৭। সব সদস্য শেখ সালমানের আহ্বানে সাড়া না দিলেও তাদের সমর্থন ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইনফান্তিনোর বিপক্ষে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৮ নভেম্বর। এখন পর্যন্ত আর কোনো প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেননি।
টোকিওতে শুক্রবার এএফসির বিশেষ কংগ্রেসে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইনফান্তিনোকে জড়িয়ে ধরে তার প্রতি সমর্থন জানান শেখ সালমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘ফিফা সভাপতি হিসেবে নতুন মেয়াদে দায়িত্ব পালনের প্রচেষ্টায় আমরা আপনার ও আপনার নেতৃত্বের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি।’
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি এশিয়ার অনেক দেশ সফর করেছেন। এই মহাদেশের অনেক সদস্যের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি আপনার অনুভূতি জানি এবং আমার মনে হয়, আপনার অঙ্গীকারও স্পষ্ট।’ ইনফান্তিনোর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে শেখ সালমান ইঙ্গিত দেন, এএফসির সব সদস্য এই সমর্থনের সঙ্গে একমত না হলেও অধিকাংশ সদস্য তার পাশে থাকবেন।
দুই মাস আগেই ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান
ইনফান্তিনোর প্রতি শেখ সালমানের এই সমর্থন আগের অবস্থানের তুলনায় বড় পরিবর্তন। দুই মাসের কিছু বেশি সময় আগে এএফসি ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে অভিযোগ করেছিল, ইনফান্তিনো ‘আস্থার মৌলিক লঙ্ঘন’ করেছেন।
বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ৪২০ কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। পরে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। গত সপ্তাহে জুরিখে ফিফার ৩৭ সদস্যের নির্বাহী পরিষদের কাছে নিজের করা ‘ভুলের’ জন্য ক্ষমা চান ইনফান্তিনো। ওই পরিষদের সভাপতিও তিনি।
বক্তব্যে ইনফান্তিনোর সঙ্গে অতীতের মতপার্থক্যের প্রসঙ্গ তোলেন শেখ সালমান। তবে সেসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তিনি বলেন, ‘জিয়ান্নি, আমি বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাই। হ্যাঁ, অতীতে আমাদের কিছু সমস্যা ছিল, যেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলেছি। কিন্তু আমি মনে করি, দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়। গত কয়েক দিনে জুরিখে আমাদের দেখা হয়েছে। সেখানে আপনি স্পষ্ট করেছেন, আমাদের মধ্যে সঠিক বোঝাপড়া রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতীত আমাদের ইতিহাসের অংশ হয়েই থাকবে বলে আমি মনে করি। আমরা সবাই সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছি। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কীভাবে আমরা একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যাব। সবারই কিছু প্রশ্ন রয়েছে। আমি নিশ্চিত, এশিয়া কিংবা বিশ্বের অন্য অঞ্চলের জন্য সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে।’
সমর্থন আদায়ে বিশ্বজুড়ে ইনফান্তিনোর সফর
ফিফার গণমাধ্যম বিভাগ বিশ্বজুড়ে ইনফান্তিনোর সফরের খবর প্রচার করছে। ছোট-বড় ফুটবল দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টায় তিনি বিভিন্ন দেশ সফর করছেন। এসব দেশের জন্য আর্থিক সহায়তা হিসেবে আরও কয়েক মিলিয়ন ডলার দেওয়ার বিষয়টিও তার প্রচারের অংশ।
ইনফান্তিনোর সফর নিয়ে রসিকতাও করেন শেখ সালমান। তিনি বলেন, ‘এখানে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি জানি, আপনি সব জায়গায় গিয়েছেন। কীভাবে যে এত কিছু করেন, তা আমি জানি না। তবে আমার মনে হয়, প্রায় প্রতিটি দেশে যাওয়ার রেকর্ড আপনি গড়ে ফেলেছেন।’
এরপর মজা করে শেখ সালমান বলেন, ইনফান্তিনোর হয়তো একজন ‘ক্লোন’ রয়েছে। তার এই মন্তব্যে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়। তবে বক্তব্যের শেষ দিকে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার সময় সবচেয়ে বেশি করতালি পান তিনি।
শেখ সালমান বলেন, ‘এশিয়ার এক পরিবার হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। জিয়ান্নি, আপনার প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে। আজ আমি বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতে চাই।’
ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বললেন ইনফান্তিনো
শেখ সালমানের পর বক্তব্য দিতে এসে ইনফান্তিনোও হালকা মেজাজে কথা বলেন। তবে নিজের কিছু ভুলের কথাও স্বীকার করেন তিনি। ইনফান্তিনো বলেন, ‘আপনি যখন অনেক কিছু করেন, তখন আশা করি আমাদের মতো অনেক ভালো কাজও করেন, আবার কিছু ভুলও হয়ে যায়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিজ্ঞতা ও ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া, সব সময় শিখতে থাকা, ক্ষমা চাওয়া, সামনে এগিয়ে যাওয়া, একসঙ্গে হওয়া, ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।’
তার নেতৃত্বে ফিফার সদস্য দেশগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর প্রসঙ্গ তুললে উপস্থিত সদস্যদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি করতালি পান ইনফান্তিনো।
তিনি বলেন, ‘আমি যখন ফিফা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে, তখন আপনাদের প্রত্যেকে—আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো এখানে আছেন এবং সেই সময়ের কথা মনে করতে পারবেন—প্রতি চার বছরে ১০ লাখ মার্কিন ডলার করে পেতেন। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সেই অর্থের পরিমাণ হবে ২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।’
এভাবে এএফসির সমর্থন পাওয়ার মধ্য দিয়ে ফিফা সভাপতি হিসেবে আরেক মেয়াদে দায়িত্ব পালনের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেলেন ইনফান্তিনো। তবে নির্বাচনে তার বিপক্ষে কেউ প্রার্থী হবেন কি না, তা মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বরের আগে স্পষ্ট হবে না।
অনিক/
