সকাল হোক বা সন্ধ্যা এক কাপ চা না পেলে, দিনটাই যেন শুরু হতে চায় না। আবার অনেকেই আছেন যারা সারাদিনে তিন-চারবার চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে থাকেন। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই অবশিষ্ট চা-পাতা অপ্রয়োজনীয় মনে করে ফেলে দেন।
তবে জানলে অবাক হবেন এই ফেলে দেওয়া চা-পাতার মধ্যে যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য থাকে তা দিয়ে খুব সহজেই বাড়ির আসবাবপত্রে থাকা ধুলো ময়লা দূর করা যেতে পারে। আবার গাছের পরিচর্যায় জৈব সার হিসেবেও খুবই কার্যকরী এই অবশিষ্ট চা-পাতা। আসুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক ব্যবহৃত চা-পাতার পাঁচটি ব্যবহার।
১. কাচের জিনিস পরিষ্কার করতে
চা-পাতার মধ্যে দুধ ও চিনির যে অবশিষ্ট অংশ লেগে থাকে তা পরিষ্কার জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর চা-পাতা জলে ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। এরপর সেই ফোটানো জল ঠান্ডা হলে শুকনো কাপড় ভিজিয়ে কাচের বাসনপত্র, আয়না, কাচের জানালা কিংবা অন্যান্য আসবাবপত্র পরিষ্কার করলেই তা ঝকঝকে হয়ে যাবে। এককথায় চা-পাতা ফোটানো জল ক্লিনজার হিসাবে খুব ভাল কাজ করে।
২. গাছের পরিচর্যায়
চা-পাতায় থাকে নাইট্রোজেন এবং প্রচুর পরিমাণ খনিজ। তাই গাছপ্রেমীরা গাছের পরিচর্যায় জৈব সার হিসাবে চা-পাতা ব্যবহার করেন। তবে এক্ষেত্রেও প্রথমে চা-পাতা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর কম্পোস্টের সঙ্গে অল্প পরিমাণে চা-পাতা মিশিয়ে টবের মাটিতে ব্যবহার করুন। এতে যেমন দ্রুত গাছের বৃদ্ধি হয় তেমনি গাছপালা সবুজ-সতেজ থাকে।
৩. রান্নাঘরের বাসন পরিষ্কারে
রান্নাঘরের তেলচিটে বাসন থেকে শুরু করে বেসিন কিংবা চপিং বোর্ড থেকে ময়লা-দুর্গন্ধ দূর করতে অবশিষ্ট চা-পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে।পোকামাকড় কিংবা ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার করতেও চা-পাতা খুবই কার্যকরী।
৪. কাঠের আসবাবপত্র পরিষ্কার
ব্যবহৃত চা-পাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে নিন। এবার একটা পরিষ্কার কাপড় নিয়ে ওই ফোটানো জলের মধ্যে সামান্য ভিজিয়ে বাড়ির কাঠের টেবিল, দরজা কিংবা আলমারি পরিষ্কার করে নিন। এইভাবে খুব সহজেই বাড়ির কাঠের আসবাবপত্র থেকে ধুলো ময়লা পরিষ্কার করে ঝকঝকে করে তোলা যায়।
https://youtu.be/TTaC77AoBTQ?si=_CHfoV_kxNqgLwzJ
৫. হাতের দুর্গন্ধ দূর করতে
পেঁয়াজ, রসুন কিংবা মাছ, মাংস কাটার পর হাত থেকে বাজে গন্ধ বের হলে এই ব্যবহৃত চা-পাতা হাতে ঘষে সাবান জল দিয়ে ধুয়ে নিলেই দুর্গন্ধ দূর হবে।
