ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ওয়েবসাইট ব্রাউজিং, অনলাইন সার্চ, অ্যাপ ব্যবহার কিংবা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে লগইন করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর নানা তথ্য সংগ্রহ হতে পারে। আবার অনিরাপদ ওয়েবসাইট, ক্ষতিকর ডাউনলোড ও দুর্বল পাসওয়ার্ডের কারণে তথ্য চুরির ঝুঁকিও থাকে।
বিশ্বের জনপ্রিয় ব্রাউজার গুগল ক্রোমে রয়েছে বেশ কিছু সেটিংস, যেগুলোর মাধ্যমে অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পরিমাণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
থার্ড-পার্টি কুকিজ নিয়ন্ত্রণ করুন: অনেক ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে কুকিজ ব্যবহার করে। বিশেষ করে থার্ড-পার্টি কুকিজ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অনুসরণে ব্যবহৃত হতে পারে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে ক্রোমের ওপরের ডান পাশের তিন ডট মেনুতে গিয়ে সেটিংস-প্রাইভেসি এন্ড সিকিউরিটি-থার্ড পার্টি কুকিজ অপশনে যান। সেখানে থার্ড-পার্টি কুকিজ ব্লক করার সুবিধা থাকলে সেটি চালু করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, কুকিজ ব্লক করলে কিছু ওয়েবসাইটে লগইন, পছন্দ সংরক্ষণ বা অন্যান্য সুবিধা ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে। ক্রোমের সংস্করণভেদে সেটিংসের নাম ও অবস্থানও আলাদা হতে পারে।
‘ডু নট ট্র্যাক’ সম্পর্কে জানুন: ক্রোমের কিছু সংস্করণে ‘ডু নট ট্র্যাক’ সুবিধা পাওয়া যায়। এটি চালু করলে ওয়েবসাইটগুলোকে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অনুসরণ না করার অনুরোধ পাঠানো হয়। তবে এটি বাধ্যতামূলক কোনো নির্দেশ নয়। ওয়েবসাইট চাইলে এই অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারে। তাই শুধু এই সুবিধা চালু করলেই অনলাইন কার্যক্রম গোপন থাকবে-এমনটি ভাবার সুযোগ নেই।
গুগল অ্যাকাউন্টে তথ্য সংগ্রহ নিয়ন্ত্রণ করুন: ক্রোমে লগইন করা গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সার্চ, অ্যাপ ব্যবহার ও অন্যান্য কার্যক্রমের কিছু তথ্য সংরক্ষিত হতে পারে। এসব তথ্য নিয়ন্ত্রণ করতে গুগল অ্যাকাউন্টের ম্যানেজ ইউর গুগল অ্যাকাউন্ট-ডাটা অ্যান্ড প্রাইভেসি বিভাগে যান। সেখানে ওয়েব এন্ড অ্যাপ একটিভিটি অপশনটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বন্ধ করতে পারেন। এতে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের তথ্য গুগল অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত হওয়ার পরিমাণ কমতে পারে। তবে এতে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
ক্রোমের সেফটি চেক চালান: ব্রাউজারের নিরাপত্তা যাচাই করতে ক্রোমের তিন ডট মেনু থেকে সেটিংস- প্রাইভেসি এন্ড সিকিউরিটি-সেফটি চেক অপশনে যান। এটি ব্রাউজারের বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় পরীক্ষা করতে সাহায্য করে। যেমন-ক্রোমের আপডেট প্রয়োজন কি না; সংরক্ষিত পাসওয়ার্ডের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সতর্কতা রয়েছে কি না; ক্ষতিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ এক্সটেনশন সম্পর্কে কোনো সতর্কতা আছে কি না; নিরাপত্তার জন্য আর কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত সেফটি চেক চালালে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো শনাক্ত করা সহজ হয়।
সেফ ব্রাউজিংয়ের উন্নত সুরক্ষা ব্যবহার করুন: ক্রোমের সেটিংস-প্রাইভেসি এন্ড সিকিউরিটি- সেফ ব্রাউজিং বিভাগে ওয়েবসাইট, ডাউনলোড ও এক্সটেনশন থেকে আসা ঝুঁকি শনাক্ত করার সুবিধা রয়েছে। এখানে সাধারণ সুরক্ষার পাশাপাশি ইনহ্যান্সড প্রটেকশন চালু করার সুযোগ থাকতে পারে। এটি ক্ষতিকর ওয়েবসাইট ও অন্যান্য অনলাইন হুমকি শনাক্ত করতে অতিরিক্ত সুরক্ষা দিতে পারে। তবে উন্নত সুরক্ষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুগলের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু তথ্য আদান-প্রদান হতে পারে। তাই নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার মধ্যে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
নিরাপদ সংযোগ ব্যবহার করুন: ক্রোমের -অরওয়েজ ইউজ সিকিউর কানেকশন্স সেটিংস চালু করলে এইচটিটিপিএস সংযোগ সাপোর্ট করে না-এমন ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় সতর্কবার্তা পাওয়া যেতে পারে। এইচটিটিপিএস সংযোগে ব্যবহারকারীর ব্রাউজার ও ওয়েবসাইটের মধ্যে আদান-প্রদান করা তথ্য এনক্রিপ্ট করা থাকে। তবে কোনো ওয়েবসাইটে এইচটিটিপিএস থাকলেই সেটি যে সম্পূর্ণ নিরাপদ বা বিশ্বাসযোগ্য, তার নিশ্চয়তা নেই।
নিয়মিত ব্রাউজার ও পাসওয়ার্ড আপডেট করুন: - গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বাড়াতে ক্রোমের পাশাপাশি অপারেটিং সিস্টেমও নিয়মিত আপডেট রাখা জরুরি। এতে পরিচিত নিরাপত্তা দুর্বলতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা পাওয়া যায়। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার না করা, প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড রাখা এবং যেখানে সম্ভব টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করাও গুরুত্বপূর্ণ।
গুগল ক্রোমে নিরাপত্তার বেশ কিছু সুবিধা থাকলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে শুধু ব্রাউজারের সেটিংস পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। কোন তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে, কোন অ্যাপ বা এক্সটেনশনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং কোথায় ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে এসব বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। সূত্র: এনগ্যাজেট
কে
