কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুরে জনি হত্যা মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন থেকে এজাহারভুক্ত আট আসামির নাম বাদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় আল্লারদর্গা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত জনির মা ও মামলার বাদী মোছা. রজনী আখতার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত বছরের (২০২৫ সালের) ২৯ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুণ্ডি মাটপাড়া মাঠে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জনি নিহত হন। এ ঘটনায় ২৬ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং- ৩৭, তারিখ- ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫)।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়ার আদালতে যে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, তাতে এজাহারভুক্ত ১ ও ২ নম্বর আসামিসহ মোট আটজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাঁদের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা পরামর্শ না করেই অত্যন্ত একতরফাভাবে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, মামলার ১ ও ৫ নম্বর আসামিকে ইতিপূর্বে নাটোর থেকে র্যাব গ্রেপ্তার করেছিল এবং তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেও হত্যায় তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রজনী আখতার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আসামিদের নাম বাদ দেওয়ায় তারা ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা ও চরম আতঙ্কে রয়েছেন। তিনি আদালতের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত দোষীদের কঠোর আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
এ সময় নিহতের স্ত্রী, সন্তান ও অসহায় পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা তুলে ধরে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব
