স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে, বিশেষ করে বাঙালির ইতিহাসে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যেন এক উপেক্ষিত ধূসর পাণ্ডুলিপি। বাঙালির স্বাধীনতা, অস্তিত্ব ও সংস্কৃতির ইতিহাস যে সমাদর ও আপ্যায়ন তাঁর প্রাপ্য ছিল, তা থেকে তিনি নির্মমভাবে বঞ্চিত ছিলেন। তবে ১৯৪৭ থেকে ২০২৬, দীর্ঘ ৭৯ বছরের অপেক্ষা শেষে বাংলার বিজেপি সরকারের আয়োজন ও উদ্যোগে গত ৬ জুলাই, ড. শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ তম জন্মদিন পালন ঘুরিয়ে দিল ইতিহাসের অভিমুখ এবং শ্যামাপ্রসাদ দাঁড়ালেন নববীক্ষণের আলোয়। এবার জাতীয় পুরস্কারজয়ী ও পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত পরিচালক মধুর ভাণ্ডারকরের নির্দেশনায় বড় পর্দায় ফুটে উঠবে ড. শ্যামাপ্রসাদের জীবনী।
আসন্ন ছবি ‘দ্য ওয়াইভস অফ বলিউড’-এর কাজ শেষ করার পর নতুন ছবি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন পরিচালক। প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন আদিত্য কুমার হালওয়াসিয়া। যৌথভাবে প্রযোজনা করবে ভাণ্ডারকর এন্টারটেইনমেন্ট। ‘শ্যামা-দ্য মিসিং চ্যাপ্টার’ নামেই ছবির নামকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, কর্ম ও উত্তরাধিকারকে এক শক্তিশালী এবং আকর্ষণীয় আঙ্গিকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই মধুর ভান্ডারকরের পরবর্তী লক্ষ্য তা বললে অত্যুক্তি হবে না।
একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্রনায়ক এবং জাতীয় ঐক্যের দৃঢ় প্রবক্তা হিসেবে ‘ভারত কেশরী’ ড. মুখোপাধ্যায় ভারতের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে তাঁর পথচলা থেকে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি, সমগ্র রাজনৈতিক জীবন জুড়ে থাকা দৃঢ় আদর্শবোধ, সাহস এবং নানা কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ছাপ-সবই ফুটে উঠবে মধুরের নিখুঁত সিনেশৈলীতে।
এছাড়াও ছবিতে উঠে আসবে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে তাঁর আদর্শগত মতপার্থক্য, মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এবং ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠার কাহিনি। পাশাপাশি, ১৯৫৩ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের পারমিট প্রথার বিরুদ্ধে তাঁর আন্দোলন এবং বন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে থাকা রহস্যময় আবরণ। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে রাজনৈতিক থ্রিলারের টানটান উত্তেজনার মেলবন্ধনে তৈরি হবে শ্যামা-দ্য মিসিং চ্যাপ্টার’।
পরিচালক মধুর ভাণ্ডারকর এই ছবি প্রসঙ্গে বলেন, “একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে প্রথমবার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন নিয়ে কাজ করা আমার কাছে যেমন চ্যালেঞ্জিং তেমনই দায়িত্বপূর্ণ একটি অভিজ্ঞতা। শ্যামার মাধ্যমে আমি সততা, সংবেদনশীলতা এবং এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সাহায্যে ভারতের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে বড় পর্দায় তুলে ধরতে চাই।” আগামী বছর ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা। তবে ছবি সংক্রান্ত আর কোনও তথ্য এখনি প্রকাশ্যে আনা হবে না।
