পরিবহন মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ-ঢাকার মহাখালী রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকাগামী যাত্রীরা। বিশেষ করে পূজার ছুটি শেষে কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা।
কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার মহাখালী রুটে অনন্যা সুপার, অনন্যা ক্লাসিক, জলসিঁড়ি পরিবহন ও উজান-ভাটি এ ৪টি বাস মূলত যাত্রী পরিবহন করে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের মালিকরা তাদের আগের পুরোনো বাসগুলো সরিয়ে নতুন বাস নামান। কিন্তু ঢাকার মালিকরা তাদের অংশের পুরোনো বাসগুলো পরিবর্তন করতে রাজি হননি। এ দ্বন্দ্বের মধ্যে কিশোরগঞ্জের বাস মালিক সমিতি ঢাকার মহাখালী রুটের সমস্ত বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।
ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ইফতেখারুল ইসলাম পারভেজ বলছিলেন, পূজার ছুটি শেষে কর্মস্থল ঢাকায় যাওয়ার জন্য বাস স্ট্যান্ডে আসি। এখানে এসে শুনি, কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এভাবে বাস বন্ধ রাখায় চরম বিপদে পড়েছি।
নাদিয়া আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকায় ফিরতে পারছি না। ছুটির পর আজকে থেকে ক্লাস শুরু হয়েছে। কিন্তু অংশ নিতে পারলাম না।
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আনিসুজ্জামান বাবুল বলেন, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে পুরোনো বাস পরিবর্তন করে নতুন বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঢাকার পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হলে তারাও সম্মতি দেন।
তার ভাষ্য, পরে কিশোরগঞ্জের মালিকরা পুরোনো বাস বদলে নতুন বাস নামালেও ঢাকার মালিকেরা পুরোনো বাস পরিবর্তন করেননি বরং এ রুটে অতিরিক্ত আরও দুটি বাস যুক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার মহাখালী রুটে চালাচলকারী সব বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে জেলা পরিবহন মালিক সমিতি।
তবে বাস চলাচল বন্ধের বিষয়ে ঢাকার পরিবহন মালিকদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরীন বলেন, বাস চলাচল বন্ধ কর্মসূচির বিষয়টি সুরাহার জন্য জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা বসবে জেলা প্রশাসন।
