প্রকাশিত: ১০:১৯, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ আপডেট: ১০:২৯, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
আশুলিয়া থানার ফটকে অনশনরত নিহত জামাল উদ্দিনের দুই ভাই
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের একটি কারখানার ছাদ থেকে পড়ে মো. জামাল উদ্দিন (৩৮) নামে এক সিনিয়র মার্চেন্ডাইজারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দীর্ঘক্ষণ মামলা গ্রহণ না করায় থানায় অনশন করেন নিহতের বড় দুই ভাই।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়া থানার ফটকের সামনে মৃত্যুর আসল কারণ উদঘাটন ও মামলা গ্রহণে গড়িমসির প্রতিবাদে অনশনে বসেন তারা। পরবর্তীতে অভিযোগ আমলে নেয় পুলিশ।
আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধে মামলাটি রেকর্ড করেছে পুলিশ। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেন এবং দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে পরিচালক শারাফ হোসেনকে।
নিহত জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদরের বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত মো. সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার সকালে কারখানার ৮ তলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, অফিসিয়াল বা অন্য কোনো আক্রোশের জেরে তাকে হত্যা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নাটক সাজানো হয়েছে। পরিবারের লোকজনকে না জানিয়েই পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়ে দেয়।
পরিবারের অভিযোগ, ন্যায়বিচার ও সঠিক কারণ উদঘাটনের দাবিতে নিহতের বড় ভাই ইস্কান্দার আলী লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করতে গড়িমসি করে ও বারবার ড্রাফট পরিবর্তন করতে বলে। দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই টালবাহানার একপর্যায়ে বিচার চেয়ে বুধবার মধ্যরাত ১২টার দিকে আশুলিয়া থানার ফটকের সামনে অনশনে বসেন নিহতের বড় দুই ভাই কুতুবউদ্দিন খান ও ইস্কান্দার আলী খান। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা অনশনের সময় থানা ফটকে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইস্কান্দার আলী। পরে তাদের ডেকে নিয়ে মামলা গ্রহণ করে পুলিশ।
থানা ফটকে ইসকান্দার আলী বলেন, “আমি নিহত জামাল উদ্দিনের বড় ভাই। আমরা দুপুর ২টা থেকে একটা অভিযোগ দায়েরের জন্য থানায় ঘুরছি, কিন্তু পুলিশ আমাদের অভিযোগ বা মামলা নেয়নি। আমরা তো এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাচ্ছি। কারখানা কর্র্তৃপক্ষ ও প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ মামলা নিতে টালবাহানা করছে, বারবার ড্রাফট পরিবর্তন করতে বলছে। আমার ভাইকে না জানিয়ে হাসপাতাল থেকে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের তার লাশ দেখতে দেওয়া হয়নি। আমরা ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত থানা ফটক থেকেই নড়ব না।”
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, রাতে দুজনকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
