এবার হকিতে মেয়েরা নবম ও ছেলেরা সপ্তম হয়েছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে এশিয়ার বেস্ট টিমগুলো অংশ নেয়। তারা তাদের সেরা দল ও সেরা প্রস্তুতি নিয়ে যায়।
বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের সাবেক তারকা রফিকুল ইসলাম কামাল বলেছেন, ক্রিকেট ও ফুটবল বাদ দিলে দেশের অন্য খেলাগুলোতে সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল। সে জায়গাটি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের রুগ্ণ অবস্থা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি এ কথাগুলো বলেছেন। রফিকুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘একটা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে যেন বুঝতে পারি এক বছর পর আমাদের অবস্থানটা কোথায় গেল, দুই বছর পর অবস্থানটা কোথায় গেল, চার বছর পর কোথায় গেল। যেকোনো ডিসিপ্লিনে ন্যূনতম চার বছরের একটা পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। প্র্যাকটিস করতে হবে, ম্যাচ খেলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের কোচ আনতে হবে, আর খেলোয়াড়দের সুবিধা বাড়াতে হবে।’
শুধু ট্রেনিংই নয়, খেলোয়াড়দের খাবারের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তাদের পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি কামাল জানান, যত বেশি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করা যায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে, তাতে খেলোয়াড়রা নিয়মিতই তাদের নিজেদের অবস্থানটা বুঝতে পারবেন।
জাপানে সদ্য শেষ হওয়া ২০তম এশিয়ান গেমস নিয়েও কথা বলেছেন রফিকুল ইসলাম কামাল। এবার হকিতে মেয়েরা নবম ও ছেলেরা সপ্তম হয়েছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে এশিয়ার বেস্ট টিমগুলো অংশ নেয়। তারা তাদের সেরা দল ও সেরা প্রস্তুতি নিয়ে যায়। সে হিসেবে আমাদের মেয়েরা প্রথমবার সেখানে অংশ নিয়ে খারাপ করেনি। সম্প্রতি একটি টুর্নামেন্টে তারা চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। এশিয়ান গেমসেও অনেক শক্তিশালী দল অংশ নিয়েছে। এ হিসেবে আমি মনে করি, তাদের ডেভেলপমেন্ট অনেক ভালো। প্রথমবার এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েই নবম হয়েছে, আমি আশা করি, সামনে তারা আরো অনেক ভালো করবে।’
হকির উন্নতির জন্য করণীয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, হকিতে অনেক কাজ করতে হবে, নিজেদের দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজে বের করে তা নিয়ে কাজ করতে হবে। এ ধরনের টুর্নামেন্ট খেলতে গেলে আপনাকে সারা বছর ম্যাচ খেলার মধ্যে থাকতে হবে এবং আপডেট থাকতে হবে। যত খেলবে ততই রেজাল্ট ভালো হবে বলে মনে করি। সব মিলিয়ে আমাদের ফল খুব একটা খারাপ হয়নি, আবার খুব ভালোও হয়নি। আমি মনে করি, আমরা আমাদের জায়গাটি ধরে রাখতে পেরেছি।’
এশিয়ান গেমসে মাত্র একটি পদক এসেছে উশু থেকে। বাংলাদেশের এ পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য গেমসে এবার আমরা খুব বেশি অসফল হলাম। ক্রিকেট, কাবাডি কিংবা আরচারিতেও আমরা আগে পদক জিতেছি। সে হিসেবে এবার রেজাল্ট ওভার-অল ভালো হয়নি। এত বড় একটা কন্টিনজেন্ট থেকে মাত্র একটা পদক, স্বাভাবিকভাবেই এটা বড় হতাশার কারণ।’
বড় আসরে লড়াই করার মতো প্রস্তুতি নেয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখেন কামাল। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এশিয়ান গেমসের মতো আসরের জন্য আমাদের প্রস্তুতিটা আসলে সেই লেভেলের হয় না। কারণ, এখানে এশিয়ার সেরা দলগুলোর সঙ্গে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। ভারত বলেন কিংবা অন্য দেশগুলোর একটা পরিকল্পনা থাকে। আমরা চার বছর পর পার্টিসিপেট করব এবং আমাদের এভাবে এভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। টুর্নামেন্টগুলোতে যত বেশি অংশগ্রহণ করা যায় আমাদের সেদিকে নজর রাখতে হবে। আমাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সঙ্গে খেলোয়াড়দের ফ্যাসিলিটিজ বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাসিলিটিজ তাদের দিতে পারলে আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু আমরা দিতে পারব।’
