ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ার আশঙ্কা আর চিনে ফেলার ভয়েই যুব মহিলা লীগ নেত্রী ডালিয়া আক্তারকে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত এড়াতে তিন আসামি পালিয়ে যায় ভিন্ন ভিন্ন পথে। ঘটনার দুই দিনের মাথায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার চান্দেরচর এলাকার মো. আশিক (২৩), চরগুলাগুলিয়া এলাকার মো. আলমগীর হোসেন (৩৬) ও মধ্যেপাড়া এলাকার মো. অনিক (১৯)।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ অক্টোবর সকাল ৬টার মধ্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর রসুলপুর বাজার এলাকার সুইডেন প্লাজার তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ডালিয়া আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
তদন্তে নেমে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা চলে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার বালুরচর এলাকা থেকে অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর বাজার এলাকা থেকে আশিক ও আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা পূর্বপরিচিত ছিলেন এবং জানতেন, ডালিয়া সকালে গৃহকর্মীর জন্য বাসার দরজা খোলা রাখতেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চুরির উদ্দেশ্যে পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে তারা ডালিয়ার বাসায় প্রবেশ করেন।
এ সময় ডালিয়া বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করেন এবং আসামিদের চিনে ফেলেন। ধরা পড়ার আশঙ্কায় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করেন এবং গলা কেটে হত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যার পর আশিক ও আলমগীর ছাদ দিয়ে পালিয়ে যান। আর অনিক বোরকা পরে বাসার মূল দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান। পালানোর সময় তারা বোরকা ও জুতা বালুর মাঠে ফেলে যান। পরে অনিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত ডালিয়া আক্তারের মেয়ে বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
