বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়Ei Samay
Authored By:
Published on
:
2 min read
এই সময়, মালদা ও কলকাতা: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মহিলা সভাপতির পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দিলেন মালদার সুজাপুরের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। সোমবার দলের রাজ্য সভাপতি বিপ্লব মিত্রকে চিঠি দিয়ে পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন সাবিনা। পারিবারিক সমস্যা এবং শারীরিক কারণকে পদত্যাগের যুক্তি হিসেবে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন এই মন্ত্রী। গণতান্ত্রিক তৃণমূলের মহিলা শাখার সভাপতির পদ ছাড়লেও তিনি দলের কর্মী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও চিঠিতে লিখেছেন সাবিনা।
কিছু দিন আগে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের আর এক বিধায়ক রথীন ঘোষও বেসুরো মন্তব্য করেছিলেন। আর এ দিন সাবিনা সরাসরি দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও দলের কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামানের বক্তব্য, ‘আমাদের বিধায়কদের (হোয়াটসঅ্যাপ) গ্রুপে সকালে এই চিঠি পেয়েছি। উনি পারিবারিক ও শারীরিক সমস্যার কথা বলেছেন। ওঁর সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানব। কিন্তু উনি আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। আমাদের সঙ্গেই থাকবেন। আমরা ঐক্যবদ্ধ। এটা কোনও ধাক্কা নয়।’
সাবিনার এই পদত্যাগ নিয়ে অবশ্য প্রকাশ্যে খুব একটা উৎসাহ দেখাচ্ছে না মমতা তৃণমূল। কালীঘাট শিবিরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের কথায়, ‘অন্য দলের কোনও ব্যক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে কয়েক জন নিজেদের পাপ ঢাকতে ওদিকে গিয়েছেন। বাকিরা পুলিশের চাপে গিয়েছেন। ভয়ের কাছে নতিস্বীকার করে কতদিন থাকবেন? আপনারা বিবেচনা করুন।’
২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৭০ হাজার ভোটে সুজাপুর কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন জোড়াফুল প্রার্থী সাবিনা। মালদায় ১২ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ইংরেজবাজারের বিজেপি প্রার্থী অম্লান ভাদুড়ীর প্রায় ৯০ হাজার জয়ের ব্যবধানের পরে দ্বিতীয় সর্বাধিক মার্জিন সাবিনার। বিজেপি অবশ্য সাবিনার ইস্তফাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। অম্লানের কথায়, ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল খায় না মাথায় দেয় কেউ জানে না। সেই দলের আবার মহিলা সংগঠনের সভাপতি! ওই পদে কারও থাকা না–থাকায় কী এসে যায়?’
এই ইস্তফা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সাবিনা বলেন, ‘যে যা সমালোচনা করুক না কেন তার কোনও ভিত্তি নেই। শুধুমাত্র পারিবারিক কিছু সমস্যা রয়েছে। এছাড়াও শারীরিক সমস্যা আরও একটা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’