
জালালাবাদ রিপোর্ট: ঢাকার বাতাসে বিষ ছড়াচ্ছে পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের কালো ধোঁয়া। দূষণ নিয়ন্ত্রণে চার বছরে ৫০৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্প নিয়েছে সরকার। তবে দূষণ কমানোর উদ্যোগে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে পরামর্শক সেবার জন্য। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যার ৫৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকাই আসবে বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে। প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।
‘বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্ট (বিসিএপি) ফেস-১: ভেহিকল ইমিশন কন্ট্রোল’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ ৪৬৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় সাতটি যানবাহন পরিদর্শন কেন্দ্রের সরঞ্জাম কেনায় ৯১ কোটি টাকা, সাতটি অফিস ভবন নির্মাণ ও সাইট প্রস্তুতিতে ২৬৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, ২০টি চলমান নির্গমন পরীক্ষা ইউনিটে ২৪ কোটি টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফিটনেস ইউনিটে ৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনিক খাতে ১২ কোটি ৭৫ লাখ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিটে ৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রস্তাব একাধিকবার পুনর্গঠন করা হয়েছে। প্রথমে ৪৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে তা বেড়ে ৪৭৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা হয়। সর্বশেষ প্রস্তাবে আরও ৩১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। পুনর্গঠিত প্রস্তাবে ব্যয় বৃদ্ধি, পরামর্শক খাত পরিবর্তন ও নতুন অঙ্গ অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে কমিশন আপত্তি তুলেছিল।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এম শামসুল হক বলেন, অতীতেও এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া হলেও সড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। তাঁর মতে, শুধু প্রকল্প গ্রহণ নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, সঠিকভাবে যানবাহন পরীক্ষা এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, পুরোনো যানবাহন ও নিম্নমানের জ্বালানি বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস। যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যানবাহন ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা প্রায় ৬৪ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার যানবাহনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রকল্পটি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন, নিয়মিত পরিদর্শন এবং আইন প্রয়োগের ওপর।
প্রকল্পের পরামর্শক ব্যয় ও অন্যান্য খাতের বরাদ্দ নিয়ে জানতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
