যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর অ্যাসপেন শহর আজ বিলাসবহুল হোটেল, অভিজাত বিপণিবিতান ও কোটি ডলারের বিলাসবহুল বাড়ির জন্য পরিচিত। অথচ শহরটির কাছেই রয়েছে এক নির্জন জনপদ, যার একসময় বড় খনিশহর এবং আন্তর্জাতিক স্কি রিসোর্ট হয়ে ওঠার স্বপ্ন ছিল। নাম অ্যাশক্রফট। একসময় জমজমাট এই শহর এখন পরিচিত ভূতুড়ে শহর হিসেবে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, অ্যাসপেন থেকে মাত্র ১৯ কিলোমিটার দূরে এলক পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত অ্যাশক্রফট। বর্তমানে সেখানে গেলে দেখা যায় কাঠের তৈরি পরিত্যক্ত ঘরবাড়ি, বয়ে চলা ঝরনা আর চারপাশের পাহাড়ঘেরা নীরব প্রকৃতি।
শীতকালে স্কিইং ও বরফের ওপর হাঁটার জন্যও জায়গাটি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে এখানে নেই আধুনিক স্কি রিসোর্টের চাকচিক্য, কেবল কার কিংবা ওয়াই-ফাই সুবিধা।
১৮৭৯ সালে কলোরাডোর রোরিং ফর্ক উপত্যকায় রুপার খনির সন্ধানে অনুসন্ধানকারীদের আগমন শুরু হয়। পরের বছরই অ্যাশক্রফট গুরুত্বপূর্ণ খনিশহর হিসেবে গড়ে ওঠে।
১৮৮২ সালে শহরটির জনসংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যায়। সেখানে ছিল হোটেল, দোকান, নাচের হল, বোলিং অ্যালি, ১৪টি পানশালা এবং পিটকিন কাউন্টির প্রথম স্কুল।
তবে সেই সমৃদ্ধি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কয়েক বছরের মধ্যেই জনসংখ্যা কমে প্রায় ১০০ জনে নেমে আসে। অনেক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী চলে যান অ্যাসপেনে। ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে অ্যাশক্রফটের অধিকাংশ স্থাপনা।
১৯৩০ এর দশকে শহরটির ভাগ্য বদলানোর আরেকটি পরিকল্পনা করা হয়। ইউরোপে স্কিইংয়ের অভিজ্ঞতা থাকা কয়েকজন উদ্যোক্তা অ্যাশক্রফটকে ইউরোপীয় ধাঁচের বড় স্কি রিসোর্টে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
পরিকল্পনায় ছিল পাহাড়ে ওঠার ট্রাম, অসংখ্য স্কি ট্রেইল ও চেয়ারলিফট। এ জন্য সরকারি অর্থায়নও নিশ্চিত হয়েছিল।
কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে পরিকল্পনাটি বাতিল হয়ে যায়। স্কি লিফট ও ট্রাম তৈরির জন্য বরাদ্দ ইস্পাত যুদ্ধের ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান নির্মাণে প্রয়োজন হওয়ায় প্রকল্পটি আর এগোয়নি।
ইতিহাসবিদ আনা লুকাবিলের ভাষায়, অ্যাশক্রফটের একের পর এক ব্যর্থ স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত শহরটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে অক্ষত রেখেছে।
অন্যদিকে, কাছের অ্যাসপেনে স্কিইং জনপ্রিয় হতে শুরু করে। সেখানে প্রথম স্কি লিফট স্থাপন এবং শীতকালীন ক্রীড়ার প্রসার শহরটিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।
আজ অ্যাশক্রফটের আকর্ষণ তার নির্জনতা ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো। শীতকালে রয়েছে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার স্কি ট্রেইল ও স্নোশু রুট।
গ্রীষ্মে পর্যটকেরা ঘোড়ায় চড়া ও পাহাড়ি পথে হাঁটার সুযোগ পান। স্থানীয় ব্যবসায়ী জনি উইলকক্সের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও কোলাহল থেকে দূরে থাকার সুযোগই জায়গাটিকে বিশেষ করে তুলেছে।
সূত্র: বিবিসি
