নতুন প্রবিধানমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে অ্যাডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আগের নির্দেশনা বহাল থাকবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রবিধানমালা-২০২৬ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ প্রবিধানমালা তৈরিতে সময় লাগছে। এ কারণে নিয়মিত কমিটি গঠন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। শিগগিরই প্রবিধানমালা চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি জানা যাবে বলে
আশা প্রকাশ করেন। তবে অ্যাডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আগের নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।
এর আগে শিক্ষা প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছিল, দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়মিত কমিটি গঠনের বিধানসহ কয়েকটি পরিবর্তন আসতে পারে।
বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকার দায়িত্ব পালন করলেও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালনা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অনেক প্রতিষ্ঠান অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জিয়াউল কবির দুলুর দাবি, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম ও পড়াশোনার পরিবেশের অবনতির অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরিচালনা কমিটির নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিবৃতিতে তিনি দেশের সব বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান। শিক্ষার্থী ভর্তি শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু করারও দাবি জানান তিনি।
তবে নতুন প্রবিধানমালায় কী কী পরিবর্তন আসছে, নিয়মিত কমিটি গঠন কবে শুরু হবে এবং নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে— তা এখনও স্পষ্ট নয়।
