ফের আপত্তির মুখে বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে গেল বাউল গানের আসর, যা অহরহ ঘটেছিল ডঃ মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনাকালে। কিন্তু দেশের ক্ষমতায় বদল এলেও সাংস্কৃতিক পরিবেশে পরিবর্তন এল না। বাউলগানের নামে অশ্লীলতা হতে পারে, এই আশঙ্কার কথা বলে আসরে আপত্তি জানানো হল। আপত্তি উঠল নারী শিল্পীদের নিয়েও। সুনামগঞ্জে বন্ধ হয়ে গেল বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের এলাকার একটি ঘরোয়া বাউলগানের আসর। এনিয়ে থানা-পুলিশ হওয়ায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আয়োজক নিজেই অনুষ্ঠান বাতিল করেন।
বৃহস্পতিবার বাউলগানের আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের পূর্বের জেলা সুনামগঞ্জের কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে। পাশের গ্রাম তাড়ল ইউনিয়নের উজানধলে কবিয়াল শাহ আবদুল করিমের জন্ম। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, হাতিয়া গ্রামের ইংল্যান্ড প্রবাসী শওকত আলি তাঁর মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে গানের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে স্থানীয় দুই নারী বাউলশিল্পী তানিশা ও নীলার গান গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেয়েদের দিয়ে গানবাজনা করা যাবে না বলে আপত্তি তোলে স্থানীয়দের একাংশ। গত বুধবার তাঁরা দিরাই থানার ওসির কাছে লিখিত আবেদন করেন আতাহার আলি ও কামরুল হাসান নামে দুই ব্যক্তি।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাতিয়া গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামি ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। গ্রামে একটি আলিম মাদ্রাসা ও একজন ওলির মাজার আছে। গ্রামে বসবাস করেন অনেক আলেম-ওলামা। আবেদনকারীদের দাবি, নারী শিল্পীদের গানের আয়োজন চলতে থাকলে এলাকায় উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গ্রামের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তাঁদের আরও দাবি, নারী শিল্পীদের দিয়ে গানের আড়ালে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই অনুষ্ঠান বন্ধ করা হোক।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাতিয়া গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামি ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। গ্রামে একটি আলিম মাদ্রাসা ও একজন ওলির মাজার আছে। গ্রামে বসবাস করেন অনেক আলেম-ওলামা। আবেদনকারীদের দাবি, নারী শিল্পীদের গানের আয়োজন চলতে থাকলে এলাকায় উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গ্রামের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তাঁদের আরও দাবি, নারী শিল্পীদের দিয়ে গানের আড়ালে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই অনুষ্ঠান বন্ধ করা হোক। পরে পুলিশ শওকত আলির সঙ্গে কথা বলে স্থানীয়দের আপত্তির বিষয়টি জানান। এসব শুনে শওকত নিজেই অনুষ্ঠান বাতিল করেন।
এর আগে হাতিয়া গ্রামে মেয়েদের ফুটবলে আপত্তি জানানো হয়েছিল। এখন একটি পক্ষের আপত্তিতে বাউলগান বন্ধ হলো। পরপর দুটি আয়োজন স্থানীয় আপত্তিতে বন্ধ বা স্থগিত হওয়া দুঃখজনক বলে জানান, সুনামগঞ্জ উদীচীর সহ-সভাপতি জাহাঙ্গির আলম। কামরুল হাসান বলেন, ‘‘আমাদের গ্রামে আগে গানবাজনা হলেও এখন এ ধরনের আয়োজন হয় না।”
