সিরাজগঞ্জে শিয়ালকোল ইউনিয়নের শিলন্দা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বাক্ষর জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও মামলা দিয়ে হয়রানির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে এক নারীর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ ঘিরে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল শনিবার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে ঘটনার নানা বৈপরিত্য ফুটে ওঠে। তাদের দাবি, আলোচিত ঘটনার সময় কাউকে মারধর কিংবা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ইমরান হোসেন, তার মা বুলবুলি খাতুন ও ভাই রেজাউলকে মামলায় ফাসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
মাথায় আঘাত পাওয়া সাবিনা খাতুন জানান, আঘাতের পর মাথায় পানি ঢালা হয়। অন্যদিকে, মামলার বাদী ও আহত নারীর মা সাহিদা খাতুন এজাহারে হাঁসুয়া দিয়ে কোপানোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় রান্নায় ব্যস্ত ও সরাসরি কোপানোর ঘটনা দেখেননি। এ ছাড়া ঘটনার সময়, পুলিশ পৌঁছানো ও হাসপাতালে নেওয়ার সময়ের ব্যবধানেও নানা অসংগতি পাওয়া গেছে। মামলার বাদী সাহিদার অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর তার ভগ্নিপতি মীর আবদুল হালিমকে প্রতিপক্ষরা মারধর করে। এ সময় তাকে রক্ষায় সাবিনা এগিয়ে এলে তার মাথায় আঘাত করা হয়।
এদিকে বিবাদী পক্ষের বুলবুলি অভিযোগ করেন, আদালতে চলমান বাটোয়ারা মামলায় তার স্বাক্ষর জাল করে জমি হস্তান্তরের চুক্তি দেখানো হয়েছে। নিজ পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় তাদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়, যা নিয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। বিবাদী ইমরান হোসেনের দাবি, টিনের ঘর ও জমির দখল সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের জেরেই প্রতিপক্ষরা এ নাটক সাজিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ জানান, সাবিনার মাথায় আঘাতের ঘটনা, চিকিৎসা নেওয়ার পরিস্থিতি ও উত্থাপিত পাল্টাপাল্টি সব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করছে পুলিশ।