লিভারপুল তাদের নিজেদের মাঠ আনফিল্ডে আর সব প্রতিপক্ষের জন্য যেন সাক্ষাৎ যমদূত হিসেবে হাজির হয়। তবে শেষ কিছু দিনে এই ধারাটা ভেঙে গেছে। এই তো গেল সপ্তাহে ম্যান সিটির কাছে হেরেছে ৩-০ গোলে। সেই শঙ্কা আবারও ফিরে ফিরে আসছিল। ভিয়ারিয়ালের কাছে হারতে বসেছিল দলটি। তবে শেষমেশ ২ গোলে পিছিয়ে পড়া সেই দল ৪-৩ গোলে হারিয়েছে ভিয়ারিয়ালকে। জোড়া গোল করে এতে বড় অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।
ম্যাচটার অন্যতম আগ্রহের বিষয় ছিল দুই গুরু শিষ্যের লড়াই। ভিয়ারিয়াল কোচ ইনিগো পেরেজ তার সাবেক বস আন্দোনি ইরাওলার মুখোমুখি হয়েছিলেন এদিন। আর সেই লড়াইয়ে এক পর্যায়ে টেক্কা দেওয়ার পথেই ছিলেন পেরেজ। ৩০ মিনিটের মধ্যেই জর্জেস মিকাউতাদজে ও সের্জি কার্দোনার গোলে ২-০ এগিয়ে যায় তার দল ভিয়ারিয়াল।
চার মিনিটেই প্রথম গোল আসে। ভার্জিল ফন ডাইক মাথা দিয়ে বল ফেরাতে গিয়ে ভুল করেন। মিকাউতাদজে শান্তভাবে গোল করেন। দ্বিতীয় গোল আসে নাথান সালিবার পাস থেকে, সেই সালিবা যার চুল টেনে ধরে ৪ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কার্দোনা লেফট ব্যাক থেকে উঠে এসে বল জালে ঠেলেন।
ইরাওলা এই ম্যাচে তার তিন দামি ফরোয়ার্ডকে বেঞ্চে রাখেন। আলেকজান্ডার ইসাক, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ফ্লোরিয়ান ভার্টজ কেউ শুরুতে নামেননি। প্রতিজনের দাম ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। রোববার ব্রাইটনের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ থাকায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
পিছিয়ে পড়ার পর লিভারপুল ঘুরে দাঁড়ায়। কস্তাস সিমিকাসের কর্নার থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার হেডে গোল করেন। এরপর ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহার ক্রস থেকে রোনাল্ড আরাউহো হেডে সমতা আনেন। বিরতিতে আরাউহোর জায়গায় নামেন ভার্টজ।
দ্বিতীয়ার্ধে এনগুমোহার গতি আবার ভিয়ারিয়ালকে ছিন্নভিন্ন করে। তার নিচু ক্রসে ম্যাক অ্যালিস্টার বারের নিচে লাগিয়ে বল জালে পাঠান। এটি তার দ্বিতীয় গোল। তিন মিনিট পরেই কোডি গাকপো বল বাড়ান ভার্টজকে। ভার্টজ এই মৌসুমে প্রথম গোল করেন। সমালোচকদের তিনি মাঠেই জবাব দেন।
শেষ দিকে ভিয়ারিয়াল একটি গোল শোধ করে। আয়োজে পেরেজের ক্রসে তানি ওলুওয়াসেউন দারুণ শটে বল জালে পাঠান। সেই গোলই আবার রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনে ম্যাচে। তবে লিভারপুল লিড ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে। ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও ৪-৩ গোলে হারের গ্লানি নিয়ে দেশের বিমানে ওঠে ভিয়ারিয়াল।