পিএইচপির নিরাপত্তাত্রুটি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এবার নোড.জেএসে একাধিক নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হয়েছে। ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নোড.জেএস প্রকল্প ১০টি দুর্বলতা সমাধানে নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে একটি ত্রুটি কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সার্ভার অচল করে দেওয়া কিংবা দূর থেকে ক্ষতিকর কোড চালানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সংস্করণ দ্রুত হালনাগাদ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা দুর্বলতাগুলোর মধ্যে রয়েছে CVE-2026-111497 নম্বরের ত্রুটি, যা নোড.জেএসের ব্রটলি ডিকোডারের সঙ্গে সম্পর্কিত। ব্রটলি একটি ডেটা কমপ্রেশন প্রযুক্তি, যা ওয়েবসাইটের তথ্যের আকার কমিয়ে দ্রুত আদান-প্রদানে সহায়তা করে। ডিকোডারের দুর্বলতা কাজে লাগানো সম্ভব হলে অ্যাপ্লিকেশন ক্র্যাশ, সেবা ব্যাহত হওয়া কিংবা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রিমোট কোড এক্সিকিউশনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
রিমোট কোড এক্সিকিউশন বলতে দূরবর্তী অবস্থান থেকে কোনো সিস্টেমে অননুমোদিত কোড চালানোর সুযোগ তৈরি হওয়াকে বোঝায়। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত অ্যাপ্লিকেশনের অনুমতি অনুযায়ী ডেটাবেজ, এপিআই কী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে সব নোড.জেএসভিত্তিক ওয়েবসাইট সমানভাবে ঝুঁকিতে নয়। অ্যাপ্লিকেশন আক্রমণকারীর নিয়ন্ত্রণাধীন ব্রটলি-সংকুচিত তথ্য প্রক্রিয়া করছে কি না, তার ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে।
পরীক্ষায় মিলেছে রিমোট কোড এক্সিকিউশনের প্রমাণ
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইমপারভা ‘Node2Shell’ নামে একটি প্রুফ অব কনসেপ্ট প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষকেরা নোড.জেএসের ২৪.২২.০ সংস্করণের লিনাক্স এআরএম৬৪ ইমেজে রিমোট কোড এক্সিকিউশন প্রদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছেন।
দ্রুত আপডেটের পরামর্শ
নোড.জেএসের ২২.x, ২৪.x ও ২৬.x সংস্করণ-শাখার জন্য নিরাপত্তা সংশোধন প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর সংশোধিত সংস্করণ হলো ২২.২৩.৪, ২৪.২২.১ ও ২৬.১২.১। প্রশাসকদের নিজেদের ব্যবহৃত সংস্করণ যাচাই করে উপযুক্ত আপডেট ইনস্টল করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া আপডেটের পর সংশ্লিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন পুনরায় চালু, প্রয়োজন অনুযায়ী কনটেইনার ইমেজ পুনর্নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ডেটাবেজের পাসওয়ার্ড, এপিআই কী ও অন্যান্য গোপন তথ্যের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখাও জরুরি।
পিএইচপি ও নোড.জেএসের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা দুর্বলতা দেখিয়েছে, বহুল ব্যবহৃত সফটওয়্যার উপাদানে ত্রুটি থাকলে একসঙ্গে অনেক অনলাইন সেবা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হওয়া মানেই সব সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট আক্রান্ত হয়েছে, এমন নয়। সময়মতো আপডেট ও যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
