সিলেট ভয়েস ডেস্ক · ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১:২১ অপরাহ্ন
শিল্প মানুষের ভাবনা, অনুভূতি ও সমাজের নানা বাস্তবতা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। কখনও রং-তুলির আঁচড়ে, কখনও ভাস্কর্যে, আবার কখনও সংগীত, সাহিত্য কিংবা অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শিল্পীরা মানুষের জীবন ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেন। শিল্পীদের এই সৃজনশীল অবদানকে সম্মান জানাতে আজ ২৫ অক্টোবর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবস (ইন্টারন্যাশনাল আর্টিস্ট ডে)।
দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো শিল্পীদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া, তাদের সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়ানো এবং সমাজে শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরা। একইসঙ্গে কর্মরত ও উদীয়মান শিল্পীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়টিও এ দিবসের সঙ্গে যুক্ত।
যেভাবে শুরু হয় দিবসটির
আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবসের সূচনা ২০০৪ সালে। কানাডীয় চিত্রশিল্পী ক্রিস ম্যাকক্লুর দিবসটি চালু করেন। তার উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল, সমাজ ও মানবজীবনে শিল্পীদের অবদানকে আলাদাভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। তার মতে, শিল্পীরা তাদের সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করেন, অথচ তাদের অবদান সব সময় যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। সেই ভাবনা থেকেই শিল্পীদের জন্য একটি বিশেষ দিন পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পিকাসোর জন্মদিনে কেন ২৫ অক্টোবর
আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবসের তারিখ নির্ধারণের পেছনে রয়েছে বিশ্বখ্যাত স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর জন্মদিন। ১৮৮১ সালের ২৫ অক্টোবর স্পেনের মালাগা শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বিংশ শতাব্দীর আধুনিক শিল্পকলার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পিকাসো চিত্রকলা, ভাস্কর্য, সিরামিক ও ছাপচিত্রসহ শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমে অসংখ্য কাজ করেছেন। কিউবিজম বা ঘনবাদী শিল্পধারার বিকাশেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
শিল্পকলায় পিকাসোর প্রভাব ও অবদানকে স্মরণ করতেই তার জন্মদিনকে আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবসের জন্য বেছে নেওয়া হয়। ফলে দিনটি কেবল একজন বিখ্যাত শিল্পীর জন্মদিন স্মরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্বজুড়ে শিল্পী ও তাদের সৃষ্টিশীল কাজের গুরুত্ব তুলে ধরার উপলক্ষ হিসেবেও বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবসের পরিধি কেবল চিত্রকরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভাস্কর, আলোকচিত্রী, সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, লেখক, অভিনেতা, ডিজিটাল শিল্পীসহ বিভিন্ন সৃজনশীল মাধ্যমে কাজ করা মানুষের অবদানও এ দিবসের আওতায় স্বীকৃতি পায়। তাঁদের কাজের মধ্য দিয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য, মানুষের আবেগ ও সামাজিক পরিবর্তনের নানা দিক প্রকাশ পায়।
শিল্পকর্ম মানুষের চিন্তাভাবনাকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়, সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এবং বিভিন্ন সমাজ ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে। তাই শিল্পীদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ, প্রদর্শন এবং নতুন প্রজন্মকে শিল্পচর্চায় উৎসাহিত করাও দিবসটির অন্যতম তাৎপর্য।
আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবসে শিল্পীদের কাজ সম্পর্কে জানা, প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেওয়া, স্থানীয় শিল্পীদের সৃষ্টিকর্মের প্রশংসা করা এবং তাদের কাজের প্রতি আগ্রহ দেখানোর মাধ্যমে দিবসটি উদ্যাপন করা যায়। নতুন ও সম্ভাবনাময় শিল্পীদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের সৃজনশীলতার বিকাশে সহায়তা করাও এ দিনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
