বড় মূলধনি ও অবকাঠামো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে শর্ত শিথিল
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে বড় মূলধনি, অবকাঠামোগত ও বহুজাতিক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন প্রস্তাবিত খসড়ায় অবকাঠামো ও মূলধননিবিড় কোম্পানির জন্য কাঠামোগত শর্ত এবং মুনাফায় থাকার বাধ্যবাধকতায় শর্ত শিথিলসহ কম শেয়ার ছেড়ে বড় মূলধন উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’-এর সংশোধনীর ওপর সর্বসাধারণ ও অংশীজনদের মতামত আহ্বানের জন্য এ খসড়া বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে খসড়ার উপর লিখিত মতামত দেওয়া যাবে।
বড় ও অবকাঠামো খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিকমিউনিকেশন, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহসহ বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘ক্যাপিটাল-ইন্টেনসিভ কোম্পানি’ নামে নতুন সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। এসব কোম্পানি আইপিও আসার ক্ষেত্রে মুনাফার শর্তেও শিথিল করা হয়েছে।
সাধারণ কোম্পানির ক্ষেত্রে আইপিওতে আবেদনের সময়ে সবশেষ আর্থিক বছরে মুনাফায় থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা মোট সম্পদ থাকা ক্যাপিটাল-ইন্টেনসিভ কোম্পানি, রেগুলেটেড কোম্পানি ও নতুন (গ্রিনফিল্ড) কোম্পানিকে বিএসইসি এ শর্ত থেকে ছাড় দিতে পারবে । তবে তালিকাভুক্তির দুবছরের মধ্যে মুনাফায় আসার কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে হবে ।
এদিকে প্রাক-আইপিও নিট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি হলে ওই কোম্পানিকে প্রচলিত ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার বাধ্যবাধকতার বদলে ন্যূনতম ৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন দেওয়া যাবে। ফলে যেসব কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকার বেশি, বিটিআরসি নিবন্ধিত (ন্যূনতম ৩০০ কোটি টাকা নিট সম্পদ) অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশি মালিকানাধীন, তারা বাজারে নতুন শেয়ার ছাড়ার পাশাপাশি বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার অফলোডের সমন্বয়ে ‘হাইব্রিড মোড’ এ আসতে পারবে।
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ও সরকারি প্রকল্পে ছাড়: আইপিও আবেদনের আগের দুবছরের মধ্যে মূলধন উত্তোলনের সাধারণ আইনি বিধিনিষেধ পিপিই (পিপিপি) প্রকল্প, সরকারি ও বিদেশি সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার থাকা কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া বিদ্যমান ২০২৫ সালের বিধিমালার উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি বিনিয়োগকারী শ্রেণির বিশেষ পাঁচ শতাংশ সংরক্ষিত কোটা খসড়া বিধিমালায় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে ।
সাধারণ ও প্রবাসী কোটা বৃদ্ধি: ফিক্সড প্রাইস ও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা বাড়ানো হয়েছে। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৩৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের কোটা ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ এবং কর্মচারীদের কোটা ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে ।
লক-ইন শিথিল: বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দের ৫০ শতাংশ শেয়ার প্রথম দিনই লেনদেনযোগ্য থাকবে । বাকি শেয়ারের মধ্যে ২৫ শতাংশ শেয়ারে ৬০ দিন এবং অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ শেয়ারে ৯০ দিনের লক-ইন থাকবে।
প্রি-আইপিও নিরপেক্ষ অডিট: আর্থিক বিবরণী ও প্রসপেক্টাসের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিতে আইপিও আবেদনের আগেই বিএসইসির প্যানেলভুক্ত নিরপেক্ষ অডিটর দিয়ে ‘প্রি-আইপিও ভেরিফিকেশন’ অডিট সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করার নিয়ম আনা হয়েছে।
বুয়েট দ্বারা লটারি নিরীক্ষা: সাধারণ ও এনআরবি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বরাদ্দের লটারি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করা এবং এর অ্যালগরিদম বুয়েট দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।


