আজকাল ওয়েবডেস্ক: রঞ্জি ট্রফির সঙ্গে ভারতীয় 'এ' দলের ম্যাচের সূচি মিলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুনীল গাভাসকর। তাঁর মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সঙ্গে 'এ' দলের সিরিজের সূচি কোনওভাবেই সংঘর্ষ হওয়া উচিত নয়। একইসঙ্গে রঞ্জি ট্রফির প্রতিযোগিতার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। রবিবার থেকে শুরু হয়েছে রঞ্জি ট্রফি। একই দিনে অস্ট্রেলিয়া 'এ' দলের বিরুদ্ধে ভারতের 'এ' দলের ম্যাচের শেষদিন ছিল। ফলে রাজ্য দলের হয়ে রঞ্জিতে খেলতে পারেননি একাধিক ক্রিকেটার। রাজত পতিদার, দেবদত্ত পাডিক্কাল এবং ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের মতো ক্রিকেটাররা ভারত 'এ' দলের হয়ে খেলায় নিজেদের রাজ্য দলের ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন।
শুধু তাই নয়, চলতি মাসের শেষদিকে নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা ভারতের 'এ' দলের। সেখানে তিনটি আনঅফিশিয়াল টেস্ট খেলবে তাঁরা। ফলে সেই সময়ও একাধিক ক্রিকেটার রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে খেলতে পারবেন না। নিজের কলামে গাভাসকর লেখেন, ভারত 'এ' দলের ম্যাচ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মান যাচাই করতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই ম্যাচের জন্য রঞ্জি ট্রফিকে কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়। তিনি বলেন, রঞ্জির এলিট ডিভিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান অনেকটাই বেড়েছে। আগে যে দলগুলি খুব একটা প্রতিযোগিতামূলক ছিল না, তাঁরাও এখন রঞ্জি ট্রফি জিতছে, যা ইতিবাচক দিক। কিন্তু ভারতীয় দলের নিয়মিত ক্রিকেটাররা ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব কম খেলায় রঞ্জিতে পারফর্ম করা ক্রিকেটারদের প্রকৃত মান বিচার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
গাভাসকরের মতে, রঞ্জি ট্রফিতে সর্বোচ্চ রান বা উইকেট নেওয়া ক্রিকেটারদের কেউ কেউ পরবর্তীতে ভারতীয় দলে সুযোগ পেলেও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের মেলে ধরতে সমস্যায় পড়েন। কেউ দ্রুত হারিয়ে যান, আবার কেউ জাতীয় দলের দরজায় থেকেও স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেন না। তবে ভারত 'এ' দলের ম্যাচের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করেন সানি। তাঁর মতে, 'এ' দলের ম্যাচই বোঝাতে সাহায্য করে কোন ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক স্তরে সফল হতে পারেন এবং কে শুধুই ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল পারফর্ম করতে সক্ষম। কিন্তু সেই ম্যাচ রঞ্জি ট্রফির সঙ্গে একই সময়ে হওয়া উচিত নয়।
গাভাসকরের সতর্কবার্তা, দুর্বল প্রতিযোগিতার সুযোগে ব্যাটার এক মরশুমে ২০০০ রান বা বোলার ১০০ উইকেটও নিতে পারেন। ফলে এমন পরিসংখ্যানকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারের দক্ষতার মাপকাঠি হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। রঞ্জি ট্রফির প্লেট ডিভিশনের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কিংবদন্তি। তাঁর দাবি, লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে রঞ্জি ট্রফিতে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে প্রতিযোগিতার সামগ্রিক মান কিছুটা কমেছে। তিনি জানান, নতুন কয়েকটি রাজ্য দলের পরিকাঠামোও যথেষ্ট উন্নত ছিল না। ফলে নিজেদের রাজ্য দলে সুযোগ না পাওয়া ক্রিকেটারদের অন্য রাজ্যের হয়ে খেলানো হয়েছে। এই ক্রিকেটাররা ভাল হলেও, এলিট ডিভিশনের দলের বিরুদ্ধে খেললে দুই ডিভিশনের মানের বিশাল ফারাক স্পষ্ট হয়ে যায়। গাভাসকর মনে করেন, প্লেট ডিভিশনে তৈরি হওয়া রেকর্ডও রঞ্জি ট্রফির রেকর্ড হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। কিন্তু দুই ডিভিশনের প্রতিযোগিতার মানের পার্থক্য বিবেচনা না করলে সেই পরিসংখ্যানের প্রকৃত মূল্যায়ন করা কঠিন।
