ইসলাম কোনো জন্মগত বা বংশীয় পরিচয় নয়; বরং ইসলামকে জেনে-বুঝে, আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে এবং তদনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলেই প্রকৃত মুসলমান হওয়া যায়। অজ্ঞতা নিয়ে মুসলমান থাকা সম্ভব নয়।
সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদী রচিত "ঈমানের হাকীকত" বইটির মূল বিষয়বস্তুর একটি সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
মুসলমান হওয়ার জন্য জ্ঞানের আবশ্যকতা:
ইসলাম কোনো জন্মগত বা বংশীয় পরিচয় নয়; বরং ইসলামকে জেনে-বুঝে, আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে এবং তদনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলেই প্রকৃত মুসলমান হওয়া যায়। অজ্ঞতা নিয়ে মুসলমান থাকা সম্ভব নয়।
মুসলমান ও কাফেরের বিশেষ পার্থক্য:
মুসলমান ও কাফেরের মধ্যে আসল পার্থক্য নাম, পোশাক বা জন্মগত নয়, বরং তাদের 'ইলম' (জ্ঞান) ও 'আমল' (কর্মের) পার্থক্য। একজন মুসলমান তার প্রকৃত মালিককে চেনে এবং তাঁর আদেশ মেনে চলে, পক্ষান্তরে কাফের তা করে না।
কালেমায়ে তাইয়্যেবার অর্থ ও তাৎপর্য:
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" শুধু মুখে উচ্চারণ করার নাম কালেমা নয়; বরং এর প্রকৃত অর্থ ও দায়িত্ব হৃদয়ঙ্গম করে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান ও রাসূলের (সা.) সুন্নাতকে একমাত্র আইন হিসেবে মেনে নেওয়া হলো এর মূল দাবি।
পাক কালেমা ও নাপাক কালেমা:
পবিত্র কুরআন মাজীদে কালেমায়ে তাইয়্যেবাকে একটি ফলবান ও মজবুত বৃক্ষের সাথে এবং কুফরি ও শিরকি আকিদাকে উপড়ে পড়া আগাছার সাথে তুলনা করা হয়েছে। কালেমায়ে তাইয়্যেবা মানুষের জীবনে শান্তি, ন্যায়বিচার ও কল্যাণ বয়ে আনে।
ঈমানের উদ্দেশ্য ও পরকালীন ফলাফল:
দুনিয়া হলো পরকালের শস্যক্ষেত্র (মাযরাআহ)। মানুষ দুনিয়ায় যে কর্মের বীজ বপন করবে, পরকালে ঠিক তারই ফল ভোগ করবে। তাই শুধু মুখে ঈমানের দাবি না করে, প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করে এবং ইসলামী অনুশাসন অনুযায়ী জীবন গঠন করাই একজন মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
