দেশের অন্যতম নাট্যদল নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী বিশেষ নাট্যোৎসব ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ১৯৭৭ সালের ১৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হওয়া ঐতিহ্যবাহী এই নাট্যদলটি চলতি বছর সফলতার ৪৯ বছর পূর্ণ করেছে। এ উপলক্ষে আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে ‘৪৯ বছর পূর্তি উৎসব’-এর আয়োজন করা হয়েছে। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের মেলবন্ধনে সাজানো হয়েছে এই উৎসবের অনুষ্ঠানসূচি।
উৎসবের প্রথম দিন ২২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটবে। উদ্বোধনের পর ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মঞ্চস্থ হবে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত এবং নাট্যজন বদরুদ্দোজার নির্দেশনায় দর্শকপ্রিয় মঞ্চনাটক ‘নৃপতি’। উৎসবের দ্বিতীয় দিন ২৩ অক্টোবর একই মিলনায়তনে সন্ধ্যা ছয়টায় নাটকটির আরেকটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বিতীয় দিনের নাটকের প্রদর্শনী শেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় প্রদর্শিত হবে সোহেল রানা বয়াতি পরিচালিত আলোচিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নয়া মানুষ’। নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি আ মা ম হাসানুজ্জামানের লেখা ছোটগল্প ‘বেদনার বালুচর’ অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে এক চর থেকে অন্য চরে ভেসে যাওয়া মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং চরাঞ্চলে নতুন মানুষের বসতি গড়ার নানা সংকট এই চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রওনক হাসান, মৌসুমী হামিদ, আশীষ খন্দকার, ঝুনা চৌধুরী, নিলুফার ওয়াহিদ, বদরুদ্দোজা, স্মরণ সাহা, শিখা কর্মকার, পারভীন পারু এবং শিশুশিল্পী উষশীসহ অনেকে।
দুই দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসব প্রসঙ্গে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা জানান, বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নাট্যদলটি আজ দীর্ঘ ৪৯ বছরের পথ অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, ‘নান্দনিক চেতনা জাগ্রত হোক, তোমার আমার সবার প্রাণে’—এই মূল প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে দলটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখতে চায়। নাট্যচর্চার মাধ্যমে সমাজজীবনের জটিলতা দূর করে একটি সুস্থ, সৎ ও ইতিবাচক নাট্য আন্দোলন গড়ে তোলাই তাঁদের দলের মূল লক্ষ্য ও কর্তব্য।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ের থিয়েটার চর্চায় নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায় সবসময় ইতিহাসভিত্তিক ও সমাজ-রাজনীতিসচেতন প্রযোজনাগুলোর ওপর জোর দিয়ে এসেছে। দলটির প্রথম মঞ্চ প্রযোজনা ছিল ‘আমার সোনার হরিণ চাই’। পরবর্তীতে দলটি নিয়মিতভাবে মঞ্চে নিয়ে এসেছে ‘রক্তকরবী’, ‘শাস্তি’, ‘নৃপতি’, ‘ক্লিওপেট্রা’, ‘মহাবিদ্রোহ’ এবং ‘সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর’-এর মতো মানসম্মত ও প্রশংসিত বহু মঞ্চনাটক। সেই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবারও নাট্যপ্রেমীদের জন্য বিশেষ এই উৎসব সাজানো হয়েছে।
