গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ৪টি আসনে জালিয়াতির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর সুনিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান (এমপি)।
তিনি বলেন, ‘আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নগরবাসীকে চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে জামায়াতের জয় নিশ্চিত করতে হবে। আগামীতে নির্বাচনে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করা হলে তা সঙ্গে সঙ্গে শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।’
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমীর বলেন, ‘৩০০ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা জামায়াতে ইসলামী আজ বাংলাদেশের ঘরে-ঘরে পৌঁছে গেছে। রাজনীতিতে জনগণের আস্থা অর্জন সবচেয়ে বড় সাফল্য। জামায়াতে ইসলামী এদেশের জনগণের আস্থাশীল একটি রাজনৈতিক আদর্শিক সংগঠন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীত ও ঐতিহ্য ধারণ করে। জামায়াতে ইসলামী কখনো ইসলাম ও মানবতার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইসলামের নীতিমালা জামায়াতে ইসলামী অনুসরণ করে বলেই এদেশের জনগণের আস্থা তৈরি হয়েছে।’
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘শুধু একাত্তর নয় চব্বিশ পরবর্তীও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নানারকম ন্যারেটিভ তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু জনগণ কোনো ন্যারেটিভ গ্রহণ করেনি। বরং ন্যারেটিভ তৈরিকারীদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’
রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, ‘দেশের সংকটকালে যারা কৌশল অবলম্বন করতে না পেরে বিদেশে পালিয়ে যায়, তারাই মূলত রাজনৈতিক কৌশলকে “গুপ্ত কৌশল” বলে সমালোচনা করে।’
সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে সঠিক রাষ্ট্র সংস্কার না করে সরকারকে নতুন সংঘাতের দিকে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেন। তিনি বলেন, জামায়াত কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, নামাজ-জাকাত চালু এবং সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ চায়।’
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, ‘আগামী সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলেই প্রতিফলিত হবে জনগণের আসল রায়।’
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমও এতে বক্তব্য রাখেন। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি-র সঞ্চালনায় সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
