Published on
:
3 min read
সুপ্রিম কোর্টের দরজা সকলের জন্য খোলা এবং এই আদালত সাধারণ মানুষের জন্যই তৈরি। সোমবার INDIA-র নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের আর্জি খারিজ নিয়ে মুখ খুললেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছেন, ‘ভোট চুরি’, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক স্তরে বৈঠক সম্ভব নয়। বরং আইনি পথে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে তাঁদের। পাশাপাশি, যে হেতু বিষয়টি ইতিমধ্যেই আদালতে বিচারাধীন, তাই বিরোধীদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ প্রধান বিচারপতির।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার আর্জি জানিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। এ দিন বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে সময় চেয়েছিলেন তাঁরা। ইন্ডিয়া ব্লকের নেতারা SIR নিয়ে অনিয়ম জানাতে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি।
‘মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালতের দরজা খোলা’
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানিয়েছেন, তিনি আগের দিনই বৈঠকের অনুরোধ পেয়েছিলেন। সেই মতো রবিবার রাতেই চিঠির উত্তর দিয়ে দেখা করতে না পারার কারণ জানিয়ে দেন। তবে সেখানে তিনি বিস্তারিত ভাবে কারণ ব্যাখ্যা করেননি বলে দাবি।
সেই চিঠি নিয়ে এ দিন সাংবাদিকরা প্রধান বিচারপতিকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের দরজা সকল নাগরিকের জন্যই খোলা এবং প্রত্যেকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালত দায়বদ্ধ। বিরোধী নেতাদের জানানো হয়েছে, তাঁদের উত্থাপিত বিষয়গুলি ইতিমধ্যেই আদালতের বিচারাধীন। তাই প্রশাসনিক পথে স্মারকলিপি গ্রহণ করে নির্দেশ দেওয়ার পরিবর্তে বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন জানানোই উপযুক্ত পথ।
সূর্যকান্তর কথায়, ‘না বলার কারণ আরও গভীর। এই ইস্যুতে (এক দেশ এক নির্বাচন জেপিসি-র বৈঠক) আদালতে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, যার ফলে আমরা প্রশাসনিক দিকটি নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য হই। আমি ও আমার বিভাগীয় সহকর্মীরা এই সম্মিলিত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, আমাদের যে কোনও ধরনের স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলা উচিত।’
প্রধান বিচারপতি আরও স্পষ্ট করেছেন, আদালত প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তবে কোনও নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তিনি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন। অর্থাৎ, বিরোধীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ বন্ধ করা হয়নি; বরং তার জন্য নির্ধারিত আইনি পথ অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতেও উল্লেখ করা হয় যে, বিরোধীরা যদি তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে চায় বা কোনও বিষয়ে আইনি প্রতিকার চায়, তবে তাদের জন্য সঠিক বিচার প্রক্রিয়ার পথ অনুসরণ করতে হবে। প্রশাসনিক স্মারকলিপির পরিবর্তে যথাযথ পিটিশন বা আইনি আবেদন দাখিল করার মাধ্যমেই কেবল এই ধরনের অভিযোগের সুরাহা সম্ভব।
SIR-এর মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, SIR বন্ধ করা এবং ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানোর দাবিও জানিয়েছে তারা। এই দাবিগুলি নিয়েই সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করার পরিকল্পনা করেছে INDIA জোট।
এই রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মধ্য দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তার কড়াকড়ি। বারাখাম্বা রোড, মান্ডি হাউস সহ সংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকায় দিল্লি পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী (CRPF)-এর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্দিষ্ট কিছু মেট্রো স্টেশনের এন্ট্রি ও এগজিট গেটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তের পরেও মিছিলের কর্মসূচি থেকে সরে আসেনি ইন্ডিয়া ব্লক। তবে সুপ্রিম কোর্টের বার্তা থেকে স্পষ্ট— নির্বাচনী অনিয়ম বা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার হবে আদালতের নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়াতেই।
FAQ
1. INDIA জোটের বৈঠকের আর্জি কেন খারিজ করলেন CJI সূর্য কান্ত?
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধীদের উত্থাপিত বিষয়গুলি ইতিমধ্যেই আদালতে বিচারাধীন। তাই প্রশাসনিক স্তরে বৈঠক করে স্মারকলিপি গ্রহণের পরিবর্তে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আবেদন জানানো উচিত।
2. INDIA জোটের নেতারা প্রধান বিচারপতির কাছে কী দাবি জানাতে চেয়েছিলেন?
রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে নির্বাচনী অনিয়ম, ভোট চুরির অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানাতে চেয়েছিলেন।
3. ‘সুপ্রিম কোর্টের দরজা খোলা’ বলে কী বোঝাতে চেয়েছেন প্রধান বিচারপতি?
প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট দায়বদ্ধ। তবে অভিযোগের প্রতিকার চাইতে হলে প্রশাসনিক বৈঠকের পরিবর্তে পিটিশন বা উপযুক্ত আইনি আবেদন দাখিল করতে হবে।
4. SIR কী?
SIR-এর পুরো নাম Special Intensive Revision বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন। এটি নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধনের একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলি।
5. INDIA জোটের প্রধান দাবিগুলি কী?
বিরোধী জোটের দাবির মধ্যে রয়েছে SIR বন্ধ করা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ব্যালট পেপারে ভোটদানের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই দাবিগুলি নিয়ে মিছিলের পরিকল্পনা করেছে তারা।
6. প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তের পর INDIA জোট কি মিছিল বাতিল করেছে?
না। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্তের পরেও INDIA জোট মিছিলের কর্মসূচি থেকে সরে আসেনি। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
