বছর দুয়েক আগে কলকাতার রাস্তা, অলিগলি যে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছিল, যে তিনটি শব্দ কার্যত তাঁর ঘুম কেড়ে নিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে সেই স্লোগানই শোনা গেল সোমবার দুপুরে। দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের আগে সাংবাদিকদের সামনে ওই মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছে বিরোধীরা। রাহুল গাঁধী-সহ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে মিছিলে থাকবেন মমতার দলের সাংসদেরাও। সেই সঙ্গে আরজেডি, সমাজবাদী পার্টির প্রতিনিধিদের মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা। ওই কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে গাড়ি থেকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মমতা জানান, মানবিকতার স্বার্থে তাঁদের এই প্রতিবাদ। তাঁরা বিচার চান। মমতা বলেন, ‘‘এটা মানবিকতার জন্য, ন্যায়বিচারের জন্য। আমরা বিচার চাই। মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আর কিছু নয়।’’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। শহর জুড়ে পথে নেমেছিল নাগরিক সমাজ। ওই আন্দোলনের প্রধান স্লোগানই হয়ে ওঠে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, যার বাংলা তর্জমা করলে হয়, ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকারকে যারপরনাই বিব্রত করেছিল স্লোগানটি। দু’বছর পর পশ্চিমবঙ্গে তাঁর সরকার পড়ে যাওয়ার নেপথ্যে আরজি কর আন্দোলন এবং তাকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘জাস্টিস’ স্লোগানের ভূমিকা রয়েছে, দাবি করেন অনেকেই। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চেনা সেই স্লোগানই দিল্লিতে নতুন করে কাজে লাগালেন মমতা।
জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় কারচুপি করে নির্বাচনগুলিতে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির সুবিধা করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর মমতা, রাহুলেরা একজোট হয়ে পথে নেমেছেন। অন্য দিকে, ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি) দিল্লিতে বিক্ষোভ-আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১০ অক্টোবর, শনিবার তাদের বিক্ষোভের দিন বাড়ির সামনে বাসস্ট্যান্ডে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা। তাকে আটক করে প্রিজ়ন ভ্যানে তুলেছিল পুলিশ। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। সোমবার আবার তাঁরা পথে নামছেন।
