মিন্টু কান্তি নাথ রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি)
ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে সারা বাংলাদেশে ন্যায় আজ(১৬ অক্টোবর) রোজ শুক্রবার রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার পাঁচটি পুজা মন্ডপে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ২০২৬ দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে।
আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিন দিনব্যাপি এ উৎসব।
দুর্গা শব্দের অর্থ হলো ব্যূহ বা আবদ্ধ স্থান। যা কিছু দুঃখ কষ্ট মানুষকে আবদ্ধ করে, যেমন বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ, শোক, জ্বালা, যন্ত্রনা এসব থেকে তিনি ভক্তকে রক্ষা করেন। শাস্ত্রকাররা দুর্গার নামে অন্য একটি অর্থ করেছেন। দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।
হিন্দু পূরাণ মতে, দুর্গাপূজার সঠিক সময় হলো বসন্তকাল কিন্তু বিপাকে পড়ে রামচন্দ্র, রাজা সুরথ এবং বৈশ্য সমাধি বসন্তকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শরতেই দেবিকে অসময়ে জাগ্রত করে পূজা করেন। সেই থেকে অকাল বোধন হওয়া সত্ত্বেও শরত কালে দুর্গাপূজা প্রচলিত হয়ে যায়।
বাঙ্গালহালিয়া কুতুরিয়া পাড়ার শিব মন্দিরের পুরোহিত কাজল চক্রবর্তী জানান, এই বছর কৈলাস হতে দেবী দুর্গা মর্ত্যে আসছেন ঘোটকে করে। আর দশমীতে দেবী নৌকায় কৈলাসে ফিরে যাবেন।
এদিকে,পূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে রাজস্থলী উপজেলার ৫টি মন্দিরে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। সারাদেশে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। ঢাক-ঢোল কাঁসা এবং শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন পুজামন্ডপ।
একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্যাপন নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক জিকু কুমার দে বলেন,ধর্ম যার যার উৎসব সবার, এবার রাজস্থলী উপজেলার পাঁচটি পূজামণ্ডপ হলো রাজস্থলী বাজারের শ্রী শ্রী হরি মন্দির,বাঙ্গালহালিয়া বাজার এলাকার কেন্দ্রিয় শ্রী শ্রী দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির,কুতুরিয়াপাড়া শিব মন্দির,ছাগলখাইয়া সার্বজনীন কৃষ্ণ মন্দির এবং ম্রুংদ্রং পাড়ায় প্রশান্ত ধরের পারিবারিক পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সারদীয় দুর্গাপূজা।
পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যরা জানান,প্রতি বছরের ন্যায় বিজয়া দশমীর দিন কর্ণফুলী নদীর মোহনায় নৌ-র্যালীর মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন হবে।অন্যদিকে বাঙ্গালহালিয়া শ্রী শ্রী দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের বাজার পুকুরে এবং রাজস্থলী বাজার হরি মন্দিরের বাজার পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
বাঙ্গালহালিয়া বাজার কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী দক্ষিনেশ্বর কালি মন্দিরের সভাপতি বিশ্বনাথ চৌধুরী জানান,তাদের পুজা মণ্ডপে সাজানো গোছানোর কাজ সম্পন্ন।এখন মাত্র অপেক্ষা ষষ্ঠী পূজার। বাঙ্গালহালিয়া শিব মন্দিরের দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পুলক চৌধুরী বলেন,সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাজস্থলী উপজেলার প্রতিটি পুজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে,এবং প্রশাসনিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা করছেন আমাদের।
রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইউছুফ হাসান বলেন,শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলার পাঁচটি পূজামণ্ডপে পুলিশ এবং পুরুষ ও নারী আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে একজন করে ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মন্দির কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকেরাও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষক কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলার প্রতিটি মন্দির সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্যাপনে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
রাজস্থলী সাব-জোনের অধিনায়ক মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত বলেন, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আজ থেকে সেনাসদস্যরা সার্বক্ষণিক টহলে থাকবেন।
রাজস্থলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ হোসেন এবং চন্দ্রঘোনা থানার ওসি এস এম সাকের আহমেদ বলেন,পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
রাজস্থলী উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সাবেকুর নাহার বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে চারজন পুরুষ ও দুজন নারী আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজস্থলী উপজেলার পূজামণ্ডপগুলো ইতিমধ্যেই উৎসবমুখর রূপ ধারন করেছে, যেখানে দেবী দুর্গার জীবন্ত রূপ ভক্তদের মন কেড়েছে।
পূজায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি মন্দিরেই থানা পুলিশের পাশাপাশি আনসার, গ্রাম পুলিশের স্বেচ্ছাসেবক দল ও মোবাইল টিম মাঠে থাকবে। এছাড়া প্রতিটি মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা সমন্বিতভাবে পূজা মন্ডপে আনসার ও পুলিশকে সহায়তা করবেন।
The post রাজস্থলীতে ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে ৫টি পূজা মন্ডবে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু appeared first on সকালের খবর ২৪.
