দুর্গাপুজোর আবহে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানা এলাকার পাটলাপুর গ্রামে তিন খ্রিস্টান পরিবারের উপর হামলা, হেনস্থা এবং জোর করে ধর্মবিশ্বাস ত্যাগ করানোর চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপ দাবি করলেন এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। শনিবার শাহকে লেখা চিঠিতে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন লোকসভার সাংসদ তথা সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যান বেণুগোপাল। শাহকে দেওয়া চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও।
বেণুগোপালের দাবি, গত ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর, অর্থাৎ দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে, পাটলাপুরের তিনটি খ্রিস্টান পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগ, বজরং দলের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত একদল ব্যক্তি ওই পরিবারগুলির বাড়িতে ঢুকে তাঁদের খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করতে বলেন। পরিবারগুলি তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের মারধর করা হয়। এক মহিলার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি সংজ্ঞা হারান বলে চিঠিতে অভিযোগ করেছেন বেণুগোপাল। মহিলাদের পোশাক খুলে দেওয়ার চেষ্টা এবং ১৫ বছরের এক কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে অপহরণ ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ১৯ অক্টোবর ওই পরিবারগুলিকে পার্শ্ববর্তী ডিঙ্গল গ্রামের একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাঁদের অঞ্জলি দিতে এবং তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশে অভিযোগ জানালে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন বেণুগোপাল।
এমন ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেরলমের এই সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার প্রথম দিন অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ আক্রান্তদের। আইনজীবীর হস্তক্ষেপের পর ২০ অক্টোবর ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এফআইআর দায়ের হয় বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে। তাতে খুনের চেষ্টা, বেআইনি অনুপ্রবেশ, পোশাক খুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে হামলা, মহিলাদের শ্লীলতাহানি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং চুরির মতো অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। বেণুগোপাল আরও জানিয়েছেন, নাগরিক সমাজের নথি অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ১৩টি জেলায় খ্রিস্টানদের নিশানা করে অন্তত ৬০টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
চিঠিতে সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বেণুগোপাল বলেছেন, প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মবিশ্বাস গ্রহণ, পালন ও প্রচারের স্বাধীনতা রয়েছে। জোর করে অন্য ধর্মের আচার পালন করানো সংবিধানের উপর আঘাতের সামিল। তাই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর প্রযোজ্য কঠোর ধারায় অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে শান্তি নষ্ট করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
