সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হতে যাওয়া ক্যাম্পে যোগ দিতে কেউ এলেন মিতুল, তপুরা এলেন একা, কাজেম-রাকিবরা এলেন দল বেঁধে। তবে, সবার আলাদা দৃষ্টি ছিল সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা জুনিয়রকে নিয়ে। কদিন আগে শেষ হওয়া আশিয়ান কাপে দুজনে জন্ম দিয়েছিলেন বিতর্ক। ম্যাচের আগে তাদের হোটেলে পার্টি করার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। দুজনে এলেন একসাথে। গাড়ি থেকে নেমে দ্রুতগতিতে ঢুকে পড়লেন হোটেলে। এরপর কোচ টমাস ডুলি এসে শুনিয়ে গেলেন সাফ নিয়ে তার আশাবাদ।
পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট এর আগে একবারই জিতেছিল বাংলাদেশ; ২০০৩ সালে। সেবারের মতো এবারও প্রতিযোগিতাটি হচ্ছে ঘরের মাঠে। উদ্বোধনী দিনে ভুটানের বিপক্ষে খেলবে ডুলির দল। ১১ নভেম্বর মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার।
প্রাথমিক দলে ঠাঁই পাওয়া ২৮ জনের মধ্যে সাত প্রবাসী ক্যাম্পে যোগ দেননি এখনও। এদের মধ্যে আবার ইংল্যান্ড প্রবাসী হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদের ক্লাবের খেলা থাকায়, ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ডুলি অবশ্য এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে বাকিদের নিয়ে পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন।
“দেখুন, ফিফা উইন্ডো বা ফিফা ডেটগুলোর বাধ্যবাধকতার কারণে আমরা কখনোই একদম শুরু থেকে পুরো স্কোয়াড একসাথে পাই না। উচুঁ মানের লিগে যারা খেলেন... তাদের ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের ছাড়তে চায় না, কারণ ম্যাচগুলোতে তাদের প্রয়োজন থাকে। এ কারণেই বছরে পাঁচটি নির্দিষ্ট সময়ে ফিফা উইন্ডো ঠিক করা থাকে, যখন ক্লাব খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্য থাকে।
“তারা (হামজা ও ফারহান) হয়তো ঠিক আগের মুহূর্তে, আনুমানিক ৮ তারিখে দল যোগ দেবে। আমি যতদূর জানি, হামজা ৯ তারিখে আসবে, ফারহানও হয়তো ৯ তারিখে আসবে বা এই জাতীয় কিছু। তাই তারা দ্বিতীয় ম্যাচের সময় থাকবে। নভেম্বরের শুরুর দিকে-যেমন ২, ৩ বা ৪ তারিখের দিকে আমাদের স্কোয়াড প্রায় পূর্ণাঙ্গ হয়ে যাবে।”
ইংল্যান্ড প্রবাসী মাহি খান, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান বেঞ্জামিন সুলিভানকে দিয়ে নাম্বার-৯-এর শূন্যতা পূরণের আশাবাদ আগেও বলেছেন ডুলি। এদিনও তার কণ্ঠে একই কথার পুনরাবৃত্তি।
“সবাই তো জানে যে আমরা একজন '৯ নম্বর' খুঁজছি এবং আমাদের দলে কোনো ৯ নম্বর নেই। আর এই পজিশনের জন্য আমরা যাদের চেষ্টা করিয়েছিলাম, তাদের দিয়ে এই দায়িত্ব পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। কারণ একজন প্রথাগত সেন্টার ফরোয়ার্ড বা ৯ নম্বরের নির্দিষ্ট কিছু গুণাবলি থাকতে হয়। এক্ষেত্রে এমন একজন খেলোয়াড় প্রয়োজন, যে বলটি আগে পাওয়ার জন্য গোলরক্ষক কিংবা ডিফেন্ডারের একদম সামনে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
“আপনারা কল্পনা করতেই পারেন, আপনাকে খেলতে হবে সবচেয়ে বড়সড় ও শক্ত ডিফেন্ডারদের বিপক্ষে, যারা কিনা আপনার বিপক্ষে হাঁটু, হাত, কনুই-সবকিছু ব্যবহার করবে। তাই এমন জায়গায় যেতে আপনাকে ভয় পেলে চলবে না। যেখানে আঘাত লাগার ভয় আছে, সেখানে যেতে যদি আপনি ভয় না পান, তবেই আপনি একজন ৯ নম্বর, তবেই আপনি একজন সেন্টার ফরোয়ার্ড-আর আমাদের দলে এই মুহূর্তে এমন কেউ নেই। রোনান এমন একজন এবং (মাহি) খানও তাদের একজন। তাই এই অতি প্রয়োজনীয় 'নাম্বার ৯' পজিশনের শূন্যতা পূরণ করতেই ওদের নেওয়া হয়েছে।”
আশিয়ান কাপে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বড় কোনো চমক দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া-তিন দলের বিপক্ষে হারে দল। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হয় ৯-২ গোলে। সাফে অনেকটা সমমানের দলের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ডুলির কণ্ঠে তাই যেন একটু বেশিই আশাবাদ ঝরল।
“প্রতিটি খেলোয়াড় যদি নিজের সেরাটা দিয়ে সঠিক সময়ে মাঠে তা ফুটিয়ে তুলতে পারে, তবে আমি মনে করি, আমরা অবশ্যই জিততে পারি। আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করি যে, আমরা পারব। আমার খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা আছে। কিন্তু দেখুন, আমরা ফুটবল খেলছি।
“অনুশীলনে যদি আমি বারবার পাসিং ড্রিল করাই, তবে আমরা বেশ ভালো খেলি। কিন্তু ম্যাচ যখন শুরু হয়ে যায়, যদি নার্ভাস হয়ে গিয়ে স্বাভাবিক পাস দিতে না পারি, তবে আমি কী করতে পারি? খেলোয়াড়রা মানুষ, তারা ভুল করবে, তারা তো আর রোবট নয়। তাই তারা যদি তাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারে-যেমন গতকাল কিংসের ম্যাচে কিছু খেলোয়াড় চমৎকার খেলেছে। জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় সেই পারফরম্যান্সটা কেন থাকবে না? তারা যদি নিজেদের মেধা ও দক্ষতা জাতীয় দলে নিয়ে এসে সর্বোচ্চ উজোড় করে খাটে, তবে আমরা অবশ্যই সফল হব।”
