কবর থেকে দুই মাস পর নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এক শিশুর লাশ উত্তোলন করেছে থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলায় গত শনিবার বেলা ১২ টায়।
জানা গেছে, উপজেলার কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা গ্রামের সাগর খাকীর দুই বছর বয়সী শিশু সাহারা ইসলাম সারার মৃত দেহ বাড়ির বাইরে ডোবার পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখে প্রতিবেশীরা। ওই দিন শিশু সারার মৃত দেহ দাফন করা হয়। তবে মৃত দেহ আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
মৃত্যুর আড়াই আড়াই মাস পর নিহত শিশুর পিতা সাগর খাকী নিজের কন্যা কে কেউ খুন করে লাশ ফেলে রেখে যায় বলে গোপালগঞ্জ আদালতে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে শিশুটির মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার কলশী ফুকরা গ্রামে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি পাপিয়া সুলতানা লিজার উপস্থিতিতে এ লাশ উত্তোলন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট দুপুর ১টার দিকে বাড়ির পূর্ব পাশের পানিতে শিশুটিকে চিৎ অবস্থায় ভাসতে দেখেন তার মা মুক্তা বেগম। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে।
পরিবারের অভিযোগ, শিশুটির পেটে আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে সন্দেহ হয় স্বজনদের। শিশুটির পিতা সাগর খাকির ধারণা, তার মেয়েকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চেয়ে গত ১৭ আগস্ট তারিখে গোপালগঞ্জ আদালতে আবেদন করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে শিশুর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।"
