একসময় ঢাকনা খুলে কথা বলার ফোন ছিল ফ্যাশনের প্রতীক। তারপর টাচস্ক্রিন স্মার্টফোন এল, আর ফ্লিপ ফোন প্রায় হারিয়ে গেল। এখন সেই ডিজাইনই নতুন চেহারায় ফিরছে। এবার ঢাকনার ভেতরে আছে ভাঁজ করা অ্যামোলেড পর্দা, শক্তিশালী প্রসেসর আর ভালো ক্যামেরা।
পুরোনো ডিজাইন, নতুন প্রযুক্তি :
আজকের ফ্লিপ ফোন আসলে ফোল্ডেবল স্মার্টফোন। খুললে পাওয়া যায় পুরো আকারের স্মার্টফোনের পর্দা। বন্ধ করলে ফোনটি প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়, আর পিঠে থাকে একটি ছোট কভার ডিসপ্লে। স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ সিরিজ, মটোরোলা রেজর, ওপো ও টেকনোর মতো ব্র্যান্ডগুলো এই ধরনের মডেল বাজারে এনেছে।
জনপ্রিয় হওয়ার কারণ :
১. বড় পর্দার ফোন এখন সাধারণ হয়ে গেছে, কিন্তু সবার কাছে সেটা সুবিধাজনক নয়। ছোট হ্যান্ডব্যাগ, জিন্সের পকেট বা মেয়েদের পোশাকের ছোট পকেটে বড় ফোন রাখা ঝামেলার। ভাঁজ করা ফোন এই সমস্যার সহজ সমাধান।
২. ফোন না খুলেই সময় দেখা, নোটিফিকেশন পড়া, মিউজিক চালানো বা কল ধরা যায়। কিছু মডেলে কভার স্ক্রিনে ছোট অ্যাপ বা সেলফি প্রিভিউও চলে। এতে বারবার ফোন খোলার দরকার কমে।
৩. ফোন আধা ভাঁজ করে টেবিলে দাঁড় করিয়ে রাখা যায়। তখন ট্রাইপড ছাড়াই ছবি তোলা বা ভিডিও রেকর্ড করা সম্ভব। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তরুণদের কাছে এটি বড় আকর্ষণ।
৪. যাঁরা ২০০০-এর দশকে ফ্লিপ ফোন ব্যবহার করেছেন, তাঁদের কাছে ঢাকনা খোলা ও "খট" করে বন্ধ করার অনুভূতি আলাদা। আবার নতুন প্রজন্মও এই ডিজাইনকে রেট্রো ফ্যাশন হিসেবে পছন্দ করছে।
৫. অনেকে সারাক্ষণ ফোনে আটকে থাকা কমাতে চান। ফ্লিপ ফোনে ঢাকনা বন্ধ করে রাখলে স্ক্রিনের দিকে তাকানোর অভ্যাস কিছুটা কমে।
সাধারণ ফ্লিপ ফোনও ফিরছে:
কেবল দামি ফোল্ডেবল নয়, কিছু ব্র্যান্ড স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ বাটন ফোনের ফ্লিপ সংস্করণও আনছে। এগুলো দামে সস্তা, ব্যাটারি অনেক দিন চলে, আর কল ও মেসেজের মতো প্রাথমিক কাজের জন্য যথেষ্ট। বাংলাদেশে এখনো বহু মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যবহারকারী ও দ্বিতীয় ফোন হিসেবে।
বাংলাদেশে ফ্লিপ ফোল্ডেবল এখনো মূলত শৌখিন ও উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের জন্য। মডেল, স্টোরেজ ও অফিসিয়াল না আনঅফিসিয়াল, তার ওপর দাম নির্ভর করে। কেনার আগে বর্তমান বাজারদর যাচাই করে নিতে পারবেন MobileBD থেকে।
শেষ কথা:
ফ্লিপ ফোনের প্রত্যাবর্তন কেবল নস্টালজিয়া নয়। এতে আছে বাস্তব সুবিধা যেমন - ছোট আকার, সহজ বহনযোগ্যতা, বড় পর্দা আর স্টাইল। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের প্রয়োজন, বাজেট আর সার্ভিস সুবিধা দেখে নেওয়া ভালো। ফোন যদি আপনার জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে যায়, তাহলে ফ্লিপ ফোন হতে পারে আপনার জন্য বেস্ট একটি ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস।
