গাজীপুরের শ্রীপুরে ২ নম্বর সিএন্ডবি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ ও দোকানপাট পরিদর্শন করেছেন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ড. হারুন অর রশিদ মোল্লা; এ ঘটনায় কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর সিএন্ডবি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ ও দোকানপাট পরিদর্শন করেছেন শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ড. হারুন অর রশিদ মোল্লা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাজার ও মসজিদের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন।
এর আগে একই দিন ভোর সাড়ে ৩টার দিকে পৌরসভার চন্নাপাড়া এলাকার ২ নম্বর সিএন্ডবি বাজারের সাখাওয়াত ও আখতার মার্কেট কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বাজারের পূর্ব পাশের বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদসহ অসংখ্য দোকানপাট, ঝুট ও তুলার গুদাম পুড়ে যায়। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এ অগ্নিকাণ্ডে কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা যায়নি। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে রফিকুল ইসলামের স্যানিটারি পণ্যের দোকান, ফালান মিয়ার মুরগির দোকান, শফিকের ঝুট ও তুলার গুদাম এবং একটি ভাঙারি লোহার দোকান। আগুনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা ও পুঁজি হারিয়ে তাঁদের অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অন্যদিকে, মসজিদটি পুড়ে যাওয়ায় স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর গভীর রাত থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাঁদের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্রীপুর পৌরসভার সমাজকল্যাণ টিমের নেতাকর্মীরাও আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্রীপুর পৌরসভার সমাজকল্যাণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান মোল্লা, পৌরসভার সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসেন এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান সজীব। এ ছাড়া জামায়াত নেতা সানোয়ার, ডাক্তার নাঈম, আলামিন ও বাচ্চুসহ সংগঠনটির অসংখ্য নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল ও মসজিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক রাতের আগুনে বহু ব্যবসায়ীর জীবিকার অবলম্বন ও দীর্ঘদিনের সঞ্চয় পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতি কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক ব্যবসায় ফিরতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দানের জন্য সংশ্লিষ্টরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
