ইসলামে মা-বাবার অধিকার ও মর্যাদা অত্যন্ত সুউচ্চ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেন, ‘পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের “উফ্” বলো না এবং তাদের ধমক দিও না; বরং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ২৩)
তাই মা-বাবাকে অবহেলা করা, অপমান করা বা কষ্ট দেওয়া সন্তানের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও গর্হিত কাজ।
কবিরা গুনাহ ও অবাধ্যতার পরিণাম: মা-বাবার অবাধ্য হওয়া ইসলামে অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ এবং কবিরা গুনাহ। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহগুলো সম্পর্কে জানাব না?’ সাহাবিরা বললেন, ‘অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসুল।’ তখন তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা এবং মা-বাবার অবাধ্য হওয়া।’ (সহিহ বুখারি: ২৬৫৪)
আনুগত্যের সীমারেখা ও বিধান: মা-বাবার আনুগত্য ইসলামে বাধ্যতামূলক হলেও এর একটি সুনির্দিষ্ট সীমারেখা রয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা যদি তোমাকে আমার সঙ্গে এমন কিছুকে শরিক করতে পীড়াপীড়ি করে, যার সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য কোরো না; তবে দুনিয়ায় তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস কোরো।’ (সুরা লুকমান: ১৫)
একই প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ভাষায় ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর অবাধ্যতা করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ: ১০৯৫)
অতএব, আল্লাহর কোনো বিধান লঙ্ঘিত হয়—এমন কোনো অন্যায় বা শরিয়তবিরোধী নির্দেশে মা-বাবার আনুগত্য করা যাবে না। তবে মতের অমিল হলেও তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের রুক্ষ বা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; বরং যেকোনো পরিস্থিতিতে তাঁদের প্রতি সদাচরণ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
বিয়ে, পেশা নির্বাচন কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মা-বাবার পছন্দ বা মত হুবহু মেনে চলা শরিয়তে আবশ্যক নয়। তবে তাঁদের যৌক্তিক পরামর্শ, অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনকে অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
শরিয়তের সীমারেখার মধ্যে থেকে যৌক্তিক কারণে মা-বাবার কোনো কথা না মানলে সন্তান অবাধ্য বা অপরাধী হয় না।
