রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়ল পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ায় সরিয়ে দেওয়া হল প্রেসিডেন্ট’স ট্রফির ম্যাচ। প্রতিযোগিতার গ্রেড ওয়ান ম্যাচগুলি হচ্ছিল পেশোয়ারের ইমরান খান স্টেডিয়াম এবং অ্যাবোটাবাদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি রবিবার জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। এর ফলে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী-সহ গোটা মন্ত্রিসভা, উপদেষ্টামণ্ডলী এবং অ্যাডভোকেট জেনারেলকে তাঁদের পদ থেকে সরে যেতে হয়েছে। ওই প্রদেশে গভর্নর শাসন জারি হয়েছে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যসচিব পদে ডক্টর মুহাম্মদ ফখর আলম ইরফানকে নিয়োগ করেছে।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই প্রদেশটি দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্রোহী হামলায় জর্জরিত। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই প্রদেশে সক্রিয় ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যদের পাকিস্তানি তালিবানও বলা হয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে প্রায়শই এদের সংঘর্ষ লেগে থাকে। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে আফগানিস্তান মদত দিচ্ছে বলেও অভিযোগ ইসলামাবাদের। খাইবার পাখতুনখোয়ার শাসনভার এত দিন ছিল ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ’-এর (পিটিআই) হাতে। ইসলামাবাদের শাহবাজ় শরিফের সরকার বার বার দাবি করে এসেছে, বিদ্রোহীদের দমনে ব্যর্থ হচ্ছে ইমরানের দলের প্রাদেশিক সরকার। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক সরকার সন্ত্রাসবাদ দমনে যথেষ্ট উদ্যোগী হচ্ছিল না। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রাদেশিক সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই থেকে সরে থাকার অভিযোগকে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার কারণে রাজনৈতিক বিক্ষোভ, অশান্তি আরও বেড়েছে। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে ম্যাচ আয়োজন এবং ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কর্তারা। তাই প্রেসিডেন্ট’স ট্রফির বাকি ম্যাচগুলি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শেখুপুরা এবং লাহৌরে। তবে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডির সূচিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। পাকিস্তানের অন্যতম প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট প্রতিযোগিতা প্রেসিডেন্ট’স ট্রফি। প্রতিযোগিতার লিগ পর্ব শেষ দিকে। জায়গা পরিবর্তনের কারণে পিছিয়ে দিতে হয়েছে খেলাও। যে দু’টি ম্যাচ ১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেগুলি শুরু হবে ১৯ অক্টোবর থেকে। শেখুপুরা এবং লাহৌরের পিচ খেলার জন্য প্রস্তুত নয়। পিচ খেলার অবস্থায় আনতে সাত-আট দিন সময় লাগবে। তা ছাড়া দলগুলিকেও শেখুপুরা এবং লাহৌরে পৌঁছোতে হবে। ক্রিকেটারদের নতুন জায়গার পিচ, আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
পিসিবি জানিয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাকি প্রতিযোগিতার সূচি পরিবর্তন করতে হবে। ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচগুলি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হবে। বাকি ম্যাচগুলির সূচি পরিবর্তন হওয়ায় এক সপ্তাহ করে পিছিয়ে যেতে পারে সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল। নতুন সূচি এখনও ঘোষণা করেননি পাক কর্তারা।
