অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে বেকারিতে তৈরি খোলা পাউরুটি বা বনরুটির দাম। কোথাও পিসপ্রতি ৫ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে, আবার কোথাও দাম অপরিবর্তিত রেখে কমানো হয়েছে পণ্যটির ওজন। এতে বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের নাশতার খরচ বেড়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকার রিকশাচালক মো. আলমগীর দিনে ১০-১২ ঘণ্টা রিকশা চালান। কাজের ফাঁকে দিনে কয়েকবার বনরুটি ও চা খান তিনি। আগে একবার নাশতায় বনরুটি ও চা মিলিয়ে খরচ হতো ২০ টাকা। রোববার থেকে বনরুটির দাম ৫ টাকা বাড়ায় একই নাশতায় তাঁর খরচ হচ্ছে ২৫ টাকা।
আলমগীর বলেন, রিকশা চালানোর সময় শক্তি ধরে রাখতে তাঁকে কয়েকবার নাশতা করতে হয়। বনরুটির দাম বাড়ায় প্রতিদিনের খরচও বেড়ে গেছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার, মগবাজার ও খিলগাঁও এলাকায় খোঁজ নিয়ে বাড়তি দামে বনরুটি ও কেক বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকার বাইরে কিছু এলাকাতেও দাম বাড়লেও খুলনা, চট্টগ্রাম, সাভার ও রাজশাহীর কয়েকটি এলাকায় রোববার পর্যন্ত আগের দামেই এসব পণ্য বিক্রি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি জানিয়েছে, কাঁচামাল ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শনিবার থেকে বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম ও ওজন সমন্বয় করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কিছু পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণ মানের হাতে তৈরি বিস্কুটের দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। কিছু বনরুটি ও মাফিন কেকের দাম অপরিবর্তিত রেখে ওজন ৪০ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৩৫ গ্রাম করা হয়েছে। আবার ১০ বা ১২ টাকা দামের কিছু বনরুটির দাম বাড়িয়ে ১৫ টাকা করা হয়েছে।
এর আগে মূল্য সমন্বয়ের দাবিতে বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি বেকারি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়। দুই দিন বন্ধের পর শনিবার থেকে নতুন দামে বাজারে পণ্য সরবরাহ শুরু করেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক মাসে ময়দা, চিনি, সয়াবিন তেল, ডালডা ও গ্যাসসহ বেকারি পণ্য তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে খোলা ময়দার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ, সয়াবিন তেল ৫ শতাংশ এবং চিনির দাম গড়ে ১১ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বাজারে উৎপাদন খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই বাধ্য হয়ে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, গত আগস্টে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের বাড়তি দামের মধ্যে বনরুটি ও কেকের দাম বৃদ্ধিও নিম্নআয়ের মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
