লক্ষ্মীর আরাধনা শুরু হয়েছিল আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায়। সেই পুজোই দেখতে দেখতে পঁচিশ বছরে পা দিল। অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালিখিতেও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। বর্তমানে ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জী’ ও ‘তিলোত্তমা’ ধারাবাহিকে কাজ করছেন অভিনেতা। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের লক্ষ্মীপুজোর আয়োজনের জন্য সময় বের করে নেন তিনি। বাজার করা থেকে ঠাকুর কেনা, নৈবেদ্য সাজানো, আলপনা দেওয়া, পুজো করা, সবই নিজের হাতে করেন ভাস্বর।
কী ভাবে শুরু হয়েছিল এই পুজো? আনন্দবাজার ডট কম-কে ভাস্বর বললেন, “আমরা তো এদেশি আমাদের কোজাগরী লক্ষ্ণী পুজো নেই। কালীপুজোর দিন অলক্ষ্মী বিদায় করে লক্ষ্মী পুজো হয়। কিন্তু আমার নিজের ইচ্ছেতে ২০০১ সাল থেকে আমি কোজাগরীর দিন আমার ফ্ল্যাটে ছোট্ট করে লক্ষ্মী পুজো করি। এটা কোজাগরী রীতিতে হয় না, এমনই ফল, মিষ্টি, অন্নভোগ দিয়ে লক্ষ্মী আরাধনা।
২০০০-০১ সময়টাতে আমাদের পরিবারের খুবই খারাপ সময় যাচ্ছিল। তখনও আমি অভিনয় জগতের লাইমলাইটে আসিনি। স্ট্রাগল করছি। প্রাইভেট চাকরি করি পাশাপাশি টুকটাক অভিনয়। আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্যে লক্ষ্মীর আরাধনা শুরু করেছিলাম।
তারপরই ২০০২ সালে ‘জন্মভূমি’ সিরিয়ালের সুযোগ এল আমার কাছে। সেই শুরু মা লক্ষ্মীর কৃপায়। এই বছর আমার লক্ষ্মীপুজোর ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে।
আমি নিজেই পুজো করি। আমি কোনও পুরোহিত ডাকি না। এতদিন বাবা-মা দু'জনেই আমার সঙ্গে পুজোর আয়োজনে থাকতেন। মা ভোগ রাঁধতেন। মা তো চলে গিয়েছেন। বাবা এখন মাটিতে বসে পুজো করতে পারেন না। তাই আমিই করি। এবার পুজোয় বাবা আর আমি হিমাচল থেকে ঘুরে এলাম। এসেই শুটিং-এর ব্যস্ততা শুরু হয়ে গিয়েছে। তার ফাঁকেই লক্ষ্মীপুজোর বাজার, ঠাকুর কেনা সব একা হাতে করেছি। অঞ্জলি, আরতি, ভোগ নিবেদন সবটাই নিজে করব। আর আমাদের এই লক্ষ্মীপুজো দিনের বেলা হয়। ইন্ডাস্ট্রির কোনও বন্ধুবান্ধবকে এই পুজোতে ডাকি না। তাঁদের আমার জন্মদিনে ডাকব। একদম ঘরোয়া পুজো , কিছু কাছের আত্মীয়স্বজন শুধু আসেন।”
ভাস্বরের দেশের বাড়ি বাঁকুড়াতে কিন্তু এই কোজাগরীর দিন হয় এক বিরল পুজো। ভাস্বরের কথায়, “আমার দেশের বাড়ি বাঁকুড়াতে মা দুর্গার অষ্টধাতুর মূর্তি আছে। সেখানে বড় করে দুর্গাপুজো হয়। শুধু তাই নয়, দুর্গাপুজোর পর কোজাগরীর দিন অষ্টমঙ্গলা দেবীর পুজো হয়। দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার আটদিন পর লক্ষ্মীপুজোর দিন অষ্টমঙ্গলা নয়। এতে লক্ষ্মীপুজোর কোনও রীতি হয় না। মা দুর্গার আরেকটা রূপের আরাধনা। অষ্টধাতুর দুর্গা দেবীর কাছেই এই পুজো হয়। তবে এলাহি কিছু নয়, একবেলার পুজো। সন্ধেবেলা অষ্টমঙ্গলা মাকে উৎসর্গ করে শীতল দিতে হয়। ঠান্ডা খাবারে লুচি,বোঁদে, মিষ্টি এসব দেওয়া হয়। সঙ্গে হয় সন্ধ্যারতি।”
