ফাহাদ হাসান জিসান, নবীগঞ্জ, বন্দর, প্রতিনিধি :
নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও বসতবাড়িতে এক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযানে বহু বছর ধরে দখল হয়ে থাকা একাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানঘর এবং বসতবাড়ি এক্সেভেটর (ভেকু) দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও উচ্ছেদকারী দল জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ী সেখানে বিপণিবিতান, দোকানপাট এবং বসতবাড়ি বানিয়ে ব্যবহার করে আসছিলেন। এর ফলে ওই এলাকায় নিত্যদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো এবং ট্রেনসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন উঠছিল।
রেলওয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার মৌখিক সতর্কবার্তা ও লিখিত নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও অবৈধ দখলদাররা জায়গা খালি করেনি। এরই ধারাবাহিকতায় পূর্বঘোষিত সিডিউল অনুযায়ী সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে রেলওয়ের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়।
অভিযান চলাকালে রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল উপস্থিত ছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং উচ্ছেদ কাজ নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, "রেলওয়ের সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি অবৈধ দখলের কারণে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। আজকের অভিযানের মাধ্যমে প্রায় বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
অন্যদিকে, হঠাৎ এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অনেকেই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা রেলওয়ের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং পুনরুদ্ধার করা জমিতে যানজট নিরসনে সঠিক পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..
