শনিবার (২৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তবে সাংবাদিকদের স্থানান্তরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়নের সময়সূচি ঘোষণা করেনি হোয়াইট হাউস।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেস ব্রিফিং কক্ষ সরিয়ে সেখানে পুরোনো সুইমিং পুল ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত খবরকে ট্রাম্প ‘ফেক নিউজ’ বলে অভিহিত করেন। এমন পরিকল্পনা তিনি কখনো বিবেচনা করেননি বলেও দাবি করেন। তবে একই পোস্টে সাংবাদিকদের অন্য কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প গত আগস্টে তৎকালীন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন বর্তমান ব্রিফিং কক্ষের বাইরে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে লেভিটের দায়িত্বকালে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি।
পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের অন্য ভবনে স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সামনে আসে। সিবিএস নিউজের ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদনেও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে আলোচনা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সে সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের সম্ভাব্য নতুন কর্মস্থল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের কোথায় স্থানান্তর করা হতে পারে, বর্তমান ব্রিফিং কক্ষ থেকে কতটা দূরে নেওয়া হবে কিংবা নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে কি না—এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
হোয়াইট হাউসের বর্তমান জেমস এস ব্র্যাডি প্রেস ব্রিফিং কক্ষের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ১৯৩৩ সালে প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের প্রশাসনের সময় সেখানে একটি সুইমিং পুল নির্মাণ করা হয়। পোলিওতে আক্রান্ত রুজভেল্ট শারীরিক ব্যায়াম ও স্বস্তির জন্য সাঁতার ব্যবহার করতেন। পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসনের আমলে পুলটির ওপর মেঝে তৈরি করে সাংবাদিকদের জন্য ব্রিফিং কক্ষ নির্মাণ করা হয়। ১৯৭০ সালের দিকে এ কক্ষ গড়ে ওঠার পর তা হোয়াইট হাউসের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়।
সম্প্রতি পুরোনো সুইমিং পুল পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, বর্তমান ব্রিফিং কক্ষ সরিয়ে সেখানে পুল ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা তাঁর নেই। ফলে সাংবাদিকদের স্থানান্তরের সম্ভাবনা এবং সুইমিং পুল পুনর্নির্মাণের বিষয়টি পৃথক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরোধ চলছে। গত সেপ্টেম্বরে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরে ফেডারেল আদালতের আদেশে তাঁদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়। এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আইনি বিরোধও অব্যাহত রয়েছে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর প্রশাসন সম্পর্কে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদকে নেতিবাচক ও অন্যায্য বলে সমালোচনা করে আসছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা কিংবা তাঁদের সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ পরিবর্তনের উদ্যোগ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মহলের মতে, সাংবাদিকদের অবাধে তথ্য সংগ্রহ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রয়েছে। তবে সাংবাদিকদের কর্মস্থল পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্তের আইনি ও সাংবিধানিক প্রভাব নির্ভর করবে পদক্ষেপটির ধরন, বাস্তবায়নপদ্ধতি এবং এর ফলে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ কতটা বজায় থাকে, তার ওপর।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বললেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, নির্দিষ্ট স্থান কিংবা বাস্তবায়নের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে বর্তমান প্রেস ব্রিফিং কক্ষ সরিয়ে সুইমিং পুল পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাও তিনি নাকচ করেছেন।
এ অবস্থায় হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের স্থানান্তরের বিষয়টি এখনো সম্ভাব্য পদক্ষেপের পর্যায়ে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ, হোয়াইট হাউসে তাঁদের প্রবেশাধিকার এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিয়মিত সংবাদ যোগাযোগের ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা নির্ভর করবে প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
The post হোয়াইট হাউস থেকে সাংবাদিকদের সরাতে চান ট্রাম্প, নতুন বিতর্কের ঝড় appeared first on ভোরের চেতনা.
