শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিন ও দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন খাবারের দোকানে রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও কনভেনশন সেন্টার থেকে সংগ্রহ করা পুরোনো তেল ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে ক্যান্টিন পরিচালনাকারী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে। তার দোকান থেকে ১৫ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যান্টিনের একাধিক কর্মচারীর দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও কনভেনশন সেন্টারে বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে রান্নার কাজে ব্যবহৃত তেল সংগ্রহ করে পুনরায় খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তেল দিয়ে হুমায়ুন কবিরের পরিচালিত শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিন এবং দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন খাবারের দোকানে খিচুড়ি, কাচ্চি, তেহারি ও রোস্টসহ বিভিন্ন খাবার রান্না করা হতো।
ক্যান্টিনে ব্যবহৃত তেলের মান নিয়ে অভিযোগ আছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন দোকান থেকে তেলগুলো জব্দ করা হয়।
ঘটনাস্থলে তেলের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তেলগুলো তার এক বন্ধু রেখে গেছেন। ওই বন্ধু বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট থেকে তেল সংগ্রহ করে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেন বলেও জানান তিনি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, আবাসিক হলের ক্যান্টিনে শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করে কাউকে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্যান্টিনে খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দোকান ও ক্যান্টিন সিলগালা করারও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বিষয়টি আমি এখন শুনেছি। এমন কোনো কাজে কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হল থেকেও বের করে দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এমই
