কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই যথাযথ নিয়মে কক্সবাজারের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পর্যটন শহরকে নিরাপদ রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষায় সদর মডেল থানা পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজার শহর ও আশপাশের ইউনিয়ন এলাকাগুলোকে চুরি, ছিনতাই ও অপরাধমুক্ত করতে গতকাল দিনব্যাপী বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ। এই অভিযানে দুইজন ছিনতাইকারী, চারজন মাদকসেবী, সাতজন সুনির্দিষ্ট অপরাধের আসামি এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত দুইজনসহ মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ সূত্র জানায়, পর্যটন শহর ও শহরতলীতে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত দুই ছিনতাইকারী হলো- ঝিলংজা দক্ষিণ আদর্শগ্রামের মো. শাকিল (১৮) এবং রামু দক্ষিণ মিঠাছড়ির আব্রাহাম আলভী রাফি (১৯)।
মাদক সেবনের দায়ে গ্রেপ্তারকৃত চারজন হলো- কক্সবাজার পৌরসভার সমিতি পাড়ার মো. জোবায়ের (২৫), পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা ও বর্তমানে কক্সবাজারের জিয়া গেস্ট হাউস এলাকার মো. মোজাম্মেল (৩০), বার্মিজ মার্কেট স্কুল রোড এলাকার মো. ফয়সাল উদ্দিন অমি (২৮) এবং বড় বাজার রাখাইন পাড়ার উদ্যিমা রাখাইন (৫৫)।
এছাড়া সুনির্দিষ্ট (ধর্তব্য) অপরাধের ভিত্তিতে অভিযানে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো- পৌরসভার টেকপাড়ার সৈয়দ আমিন (২৬), গোলদীঘির পাড়ের অভি দাশ (২৯), পূর্ব মোহাজের পাড়ার মোহাম্মদ আরমান (২০), দক্ষিণ হাজীপাড়ার ইমরান (২২), দক্ষিণ মুহুরীপাড়ার হাবিব (২৮), খুরুশকুল ফকির পাড়ার আশ্রাফ আলী (২৮) এবং নতুন ঘোনার পাড়ার মো. সাইফুল ইসলাম (২৫)।
পুলিশ জানায়, সুনির্দিষ্ট অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া এই সাতজনের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই থানায় একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দ আমিনের বিরুদ্ধে চুরি ও হত্যাচেষ্টার দুটি, অভি দাশের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতি প্রস্তুতির তিনটি, মোহাম্মদ আরমানের বিরুদ্ধে অপহরণ ও দ্রুত বিচার আইনের একটি এবং হাবিবের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা রয়েছে।
পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে দীর্ঘদিনের পলাতক ও আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- পৌরসভার সমিতি পাড়ার মোস্তাক পাড়া এলাকার মহি উদ্দিন (৩৫) এবং খুরুশকুল কাউয়ার পাড়ার সাহাদাত (২৩)।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই যথাযথ নিয়মে কক্সবাজারের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পর্যটন শহরকে নিরাপদ রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষায় সদর মডেল থানা পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
